Aaj India Desk, কলকাতা: নিউ মার্কেটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (New Market Fire) ঘটনায় শোকপ্রকাশ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তবে শোকবার্তার পাশাপাশি এই দুর্ঘটনার জন্য আগের তৃণমূল সরকারের (TMC Government) সময়কার প্রশাসনিক গাফিলতিকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ‘বহু বছরের গাফিলতি ও উদাসীনতার ফলেই’ এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে হোটেলের এসি বা সুইচ বোর্ডের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে শুধু আগুন কীভাবে লাগল, সেই প্রশ্নেই তদন্ত থেমে নেই। এত ঘিঞ্জি একটি ভবনে কীভাবে একের পর এক হোটেল ও ব্যবসা চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বছরের পর বছর শহরের বিভিন্ন জায়গায় অপরিকল্পিতভাবে পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম বা প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা ঠিকমতো মানা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার এই ধরনের অনিয়মের দিকে যথেষ্ট নজর দেয়নি। নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা বা মহড়া না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এখন সেই পুরনো সমস্যাগুলি কাটিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
এই ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আহতদের প্রয়োজনীয় এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে এবং কারও গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নিতে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, হোটেলের সুইচ বোর্ড অথবা এসি থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে নিশ্চিতভাবে আগুনের কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যেই কয়েক জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক দলের সদস্যরাও পৌঁছেছেন। আগুন ঠিক কোথা থেকে শুরু হয়েছিল, কীভাবে এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল এবং হোটেলে অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দমকলের প্রাথমিক ধারণা, হোটেলের দ্বিতীয় তলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত। সেখান থেকে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তার সঙ্গে ঘন ধোঁয়ায় হোটেলের ভিতরে থাকা মানুষজন আরও বিপদের মধ্যে পড়েন। উদ্ধারকাজ চালানোর সময়ও দমকলকর্মীদের বেশ কিছু সমস্যার মুখে পড়তে হয়। অন্যদিকে, ঘটনার পর থেকেই হোটেলের মালিকের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। তাঁকে খুঁজে বের করাও এখন পুলিশের তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


