Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা : জনগণনার এনুমারেশনের কাজ শুরু হতেই সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন স্কুলে দেখা গেলো শিক্ষক-সঙ্কটের (Teacher Shortage) ছবি। ফিল্ড সমীক্ষার কাজে বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা স্কুলের বাইরে থাকায় কোথাও টিফিনের পরেই ছুটি দিতে হয়েছে, কোথাও আবার পড়ুয়াদের স্কুলে এসেও নিয়মিত ক্লাস না করে বসে থাকতে হয়েছে। এনুমারেশনের প্রথম দিনের পরেই কাজের ক্ষেত্রে এহেন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ উগরে দেন শিক্ষকরা।
মধ্যমগ্রাম শহরের অন্যতম বড় বাংলা মাধ্যম স্কুল মধ্যমগ্রাম বয়েজ হাই স্কুল। স্কুলটিতে পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় ২,৬৬৫। মোট ৪২ জন শিক্ষকের মধ্যে সোমবার জনগণনার কাজে ছিলেন ৩০ জন। ছয় জন অশিক্ষক কর্মীর মধ্যেও চার জন এই কাজে যুক্ত ছিলেন। ফলে শিক্ষক-সঙ্কট (Teacher Shortage) সামাল দিতে রীতিমতো সমস্যায় পড়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ। শেষ পর্যন্ত সোমবার টিফিনের পরেই ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
অন্যদিকে জেলা সদর বারাসতে পূর্ব বড়সড় আদর্শ বিদ্যাপীঠ স্কুলেও একই ছবি দেখা যায়। প্রায় ৩,৫০০ পড়ুয়ার এই স্কুলে মোট ৪৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২২ জন জনগণনার এনুমারেশন ফিল্ড সমীক্ষার কাজে যুক্ত থাকায় নিয়মিত ক্লাস নিতে পারছেন না। শিক্ষক-সঙ্কটের (Teacher Shortage) কারণে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত কীভাবে ক্লাস চালানো যায়, তা নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিকল্প ব্যবস্থা ভাবতে হচ্ছে। প্রয়োজনে জোড়-বিজোড় নম্বর ধরে বিভিন্ন দিনে ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনাও ভাবা হচ্ছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সমীর আচার্য বলেন, “স্কুল বন্ধ করা যাবে না। সামনেই পরীক্ষা, পড়ুয়ারা আসছে। কিন্তু শিক্ষক কম থাকায় ক্লাস নিতে সমস্যা হচ্ছে।”
বারাসতের একটি স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা রুমা দে বলেন, “জনগণনার কাজে যদি স্কুলের শিক্ষকরা বাইরে থাকেন, তা হলে ক্লাস নেবেন কে? বিষয় বদলে ক্লাস নেওয়া বা পিরিয়ড বাতিল করা স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।” শিক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, জনগণনার কাজ গুরুত্বপূর্ণ হলেও তার প্রভাব যেন স্কুলের পঠনপাঠনের উপর না পড়ে। জনগণনার এনুমারেশন পর্ব যত এগোবে, শিক্ষক-সঙ্কট আরও কতটা বাড়বে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিভিন্ন স্কুলে। বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে নিয়মিত ক্লাস চালানো আরও কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা স্কুল কর্তৃপক্ষের।


