Aaj India Desk , কলকাতা: ‘বন্দে মাতরম্’-কে অপমান করা মানে দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ এবং তার রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে অপমান করা এমনই অভিযোগ তুলে কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীর নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এই ইস্যুতে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।
‘ক্যামেরার সামনে সত্য ঢাকা সম্ভব নয়’
শুভেন্দুর অভিযোগ, পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়ার সময় সনিয়া গান্ধী বিরক্তি, আপত্তি ও বিরোধিতা প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, গোটা ঘটনা লাইভ সম্প্রচারে দেশবাসী দেখেছেন এবং সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে কংগ্রেস নেতারা যতই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করুন, সত্য লুকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘ক্যামেরার সামনে সত্যিটা ঢাকা যায় না’। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সনিয়া গান্ধীর কাছে সরাসরি ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বঙ্কিম পরিবারের চিঠির প্রসঙ্গ
শুভেন্দু জানান, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্য সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই সনিয়া গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেকে চিঠি পাঠিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সেই চিঠির পর সনিয়া ও খড়্গের প্রতিক্রিয়ার দিকেই নজর রয়েছে বলে জানান তিনি।
‘বন্দে মাতরম্’-এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব
বন্দে মাতরম্-এর ঐতিহাসিক গুরুত্বও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, বঙ্কিমচন্দ্রের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে থাকা এই গান স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনের সময় গানটি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে। স্বদেশি, বয়কট এবং বন্দে মাতরম্ এই তিনটি বিষয় স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তৈরি হবে ‘বন্দে মাতরম্ মিউজিয়াম’
শুভেন্দু জানান, ‘বন্দে মাতরম্’-এর সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি চলছে। পশ্চিমবঙ্গেও সরকার ও সরকার-পোষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রার্থনার সময় ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যে জাতীয় মানের একটি ‘বন্দে মাতরম্ মিউজিয়াম’ তৈরির ঘোষণাও করা হয়েছে।
শেষে সনিয়া গান্ধী ও সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে শুভেন্দুর বার্তা, ‘বন্দে মাতরম্’, দেশপ্রেম ও বঙ্কিমচন্দ্রকে অপমান করা হয়ে থাকলে পশ্চিমবঙ্গবাসীর কাছে তাঁদের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া উচিত।


