Aaj India Desk, কলকাতা: বাংলায় পরিবর্তনের পর এবার শহরের চেহারাতেও বদল আনার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। ধর্মতলার ফুটপাত (Dharmotola Footpath) ও রাস্তা দখলমুক্ত বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল পার্কস্ট্রিটও (Park Street)। পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) জানিয়েছেন, ধর্মতলার পাশাপাশি পার্কস্ট্রিটের ফুটপাতও দখলমুক্ত করা হবে।
স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে শমীক ভট্টাচার্য ধর্মতলার দখল নিয়ে সরব হন। তাঁর বক্তব্য, ধর্মতলা কলকাতার প্রাণকেন্দ্র। অথচ দখলদারির কারণে সেই জায়গার স্বাভাবিক চেহারা অনেকটাই ঢাকা পড়েছে। তাই ধর্মতলা পরিষ্কারের দায়িত্ব দলের কাউন্সিলর ও বিধায়ককে দিয়েছেন তিনি। শমীক বলেন, “ধর্মতলা থেকে সরে যান। ওটা কলকাতার বুক। আমাদের দু’জন কাউন্সিলর আছেন, একজন বিধায়ক আছেন। আমি তাঁদের দায়িত্ব দিচ্ছি, ধর্মতলা আগে পরিষ্কার করুন, তারপর তো বোঝা যাবে নতুন সরকার এখানে এসেছে। এর জন্য কোনও নির্দেশের দরকার নেই। এটা পার্টির অবস্থান। এটা পার্টির ঘোষিত অবস্থান।”
শমীকের এই ঘোষণার পর থেকেই ধর্মতলার ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দোকানিদের একাংশের বক্তব্য, প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা মেনে চলতে হবে। তবে দোকান বা ব্যবসার জায়গা সরিয়ে দিলে তাঁদের সমস্যায় পড়তে হবে। তাই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি ভালোভাবে বিবেচনা করে সকলের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন বলেই মনে করছেন তাঁরা।
এরই মধ্যে রবিবার ধর্মতলা নিয়ে শমীকের ঘোষণার পরদিনই পার্কস্ট্রিট নিয়েও বড় সিদ্ধান্তের কথা জানালেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বক্তব্য, শুধু ধর্মতলা নয়, পার্কস্ট্রিটের ফুটপাতও সম্পূর্ণ খালি করা হবে। পাশাপাশি এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সৌন্দর্যায়নের কাজও করা হবে।
কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে পাশে নিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “শুধু ধর্মতলা নয়, পার্ক স্ট্রিটেও খালি করা হবে ফুটপাথ। পার্ক স্ট্রিটে চৌরঙ্গি থেকে সেভেন পয়েন্ট কানেকটর পর্যন্ত আমরা দু’পাশে কোনও হকার বসতে দেব না। হকার যারা আছে, তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, কিন্তু আপনারা অন্য জায়গায় বসুন।”
পুরমন্ত্রীর দাবি, পার্কস্ট্রিট কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও পরিচিত এলাকা। তাই এর চেহারা আরও সুন্দর করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “পার্কস্ট্রিট হল কলকাতার জানালা। সেটাকে সুন্দর করে সাজাব। লাইট লাগাবো, সুন্দর করে পেভমেন্ট করব। হকার থাকবে না। হকাররা অন্য জায়গায় বসুক।”
অর্থাৎ ধর্মতলার পর এবার পার্কস্ট্রিটেও ফুটপাত দখলমুক্ত করার সিদ্ধান্তের কথা সামনে এল। একদিকে শহরের সৌন্দর্যায়নের পরিকল্পনা, অন্যদিকে হকারদের পুনর্বাসনের প্রশ্ন—এই দুই বিষয়কে ঘিরেই এখন নজর থাকবে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।


