Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi) কতটা কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন, তা জানালেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল (Ajit Doval)। তাঁর দাবি, হামলার পিছনে যারা ছিল, তারা পৃথিবীর যে প্রান্তেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, তাদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ডিসকভারি-র তথ্যচিত্র সিরিজ ‘ডিক্লাসিফায়েড: অপারেশন সিঁদুর’-এ সেই সময়ের পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে ডোভাল জানান, পহেলগাঁও হামলার পর প্রধানমন্ত্রী হামলার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার বিষয়ে অত্যন্ত জোর দিয়েছিলেন। ডোভালের কথায়, প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “পৃথিবীতে হোক, আকাশে হোক, পাতালে হোক, যেখানেই থাকুক, আমরা তাদের খুঁজে বের করব।”
ডোভালের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশ শুধু হামলার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গিদের চিহ্নিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াই যে দীর্ঘমেয়াদি ভাবে চলবে, সেই বার্তাও এর মধ্যে ছিল। তাঁর কথায়, “প্রধানমন্ত্রী যখন বলেন, অপারেশন সিঁদুর এখনও জারি রয়েছে, তখন তাঁর উদ্দেশ্য হল, শেষ জঙ্গি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই শেষ হবে না।”
‘কে করেছে? এখনই জানতে চাই’
পহেলগাঁওয়ে হামলার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী সৌদি আরবে ছিলেন। সেখান থেকে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে বিদেশ সচিব তাঁকে স্বাগত জানান। সেখানেই হামলা নিয়ে একটি বৈঠক হয় বলে জানান ডোভাল।
তাঁর দাবি, বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী জানতে চান হামলার পিছনে কারা রয়েছে। ডোভালের কথায়, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম প্রশ্ন ছিল, “কে এটা করেছে? কারা দায়ী? হামলাকারীরা কারা, সে বিষয়ে আমাদের একেবারে নিশ্চিত হতে হবে। আমি এখনই জানতে চাই।”
ডোভাল জানান, হামলার পর ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি দ্রুত তদন্ত শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই হামলার সঙ্গে কারা যুক্ত এবং তাদের দায় কতটা, সে বিষয়ে গোয়েন্দারা একটি স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছতে সক্ষম হন। NSA বলেন, “আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কৃতিত্ব, তারা দুর্দান্ত কাজ করেছিল। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পেরেছিলাম।”
পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে ওঠে এই গোয়েন্দা তথ্য। হামলার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পরই ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেয়, যার পরবর্তী পর্যায়ে শুরু হয় অপারেশন সিঁদুর।


