Aaj India Desk, কলকাতা : SSKM এ রোগী ভর্তি করিয়ে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক নাম। বিশেষ কোটায় ভর্তি করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবার রোগীর আত্মীয়ের কাছ থেকে ১৩ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হল আরও এক ব্যক্তি।
কী অভিযোগ অমিতের বিরুদ্ধে?
পুলিশ সূত্রে খবর, SSKM হাসপাতালে এক রোগীকে ‘বিশেষ কোটায়’ ভর্তি করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা অমিত প্রামাণিক। এর জন্য রোগীর আত্মীয়ের কাছ থেকে দু’দফায় মোট ১৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়। টাকা নেওয়ার পর আচমকাই যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় সে। এরপর ভবানীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। তদন্তে নেমে অমিতের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একমাসে ছয়জন গ্রেপ্তার
এই মামলায় গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ভবানীপুর থানার পুলিশ। গত ৬ জুলাই হুগলির উৎপল বসু মল্লিক এবং মুর্শিদাবাদের আশাবুল শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর গ্রেপ্তার হন হুগলির সুজয় দাস, ভবানীপুরের রাজেশ মল্লিক এবং তাপস নায়েক। তদন্তকারীদের দাবি, রোগী ভর্তি করানো থেকে শুরু করে হাসপাতালের বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে রোগীর পরিজনদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে।
অমিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের পরিধি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। শুধু ওই ১৩ হাজার টাকার লেনদেনই হয়েছিল, নাকি এর পিছনে আরও বড় আর্থিক কারবার রয়েছে তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ আধিকারিকরা।
উল্লেখ্য, দালালচক্রের অভিযোগ সামনে আসার পর SSKM হাসপাতালে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে পরিষেবা পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। এখন প্রশ্ন, একের পর এক গ্রেপ্তারের পর কি সত্যিই ভাঙতে চলেছে এসএসকেএমের কথিত দালালচক্র? নাকি আগামী দিনে আরও নাম জুড়তে চলেছে এই গ্রেপ্তারির তালিকায়? অমিতের মোবাইল ও আর্থিক লেনদেনের সূত্রে আপাতত সেই উত্তর খুঁজছে পুলিশ।


