Aaj India Desk, কলকাতা: কোচবিহার থেকে পাক গুপ্তচর সন্দেহে ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ধৃতদের সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ISI-এর যোগাযোগ রয়েছে। অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন সেনা ঘাঁটির আধিকারিকদের ফোন করে তাঁদের হানিট্র্যাপ-সহ নানা ধরনের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। STF সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই তিনজনের সঙ্গে গরু পাচার চক্রেরও যোগ রয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারীদের দাবি, পাকিস্তানের পাঞ্জাব এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে ফোর্ট উইলিয়াম-সহ দেশের একাধিক আর্মি বেসে ফোন করা হত। সেই ফোনগুলির ক্ষেত্রে কোচবিহার থেকে সংগ্রহ করা সিম ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেনা ঘাঁটিতে ভুয়ো পরিচয় দিয়ে ফোন করা হত বলেও তদন্তে জানা গিয়েছে। বিষয়টি আগে থেকেই ফোর্ট উইলিয়ামের তরফে গোয়েন্দাদের জানানো হয়েছিল। STF-এর অনুমান, এর পিছনে আরও বড় একটি চক্র কাজ করছে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, গরু পাচারের সূত্রেই ধৃতদের সঙ্গে বাংলাদেশের নাগরিক আকবর ওরফে সম্রাটের পরিচয় হয়েছিল। অভিযোগ, তাঁদের মাধ্যমে ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ করে বাংলাদেশে পাঠানো হত। উত্তর দিনাজপুরের পাঞ্জিপাড়ার বাসিন্দা মহম্মদ শফিকুল ইসলামের মোবাইল পরীক্ষা করে বেশ কয়েকটি বাংলাদেশি নম্বর, জাল ভারতীয় নোটের ছবি ও ভিডিও এবং একটি ভিডিও কলের স্ক্রিনশট পাওয়া গিয়েছে। ওই স্ক্রিনশটে থাকা সময়ের সঙ্গে আকবরের বাংলাদেশি নম্বরে হওয়া একটি ফোন কলের সময়ের মিলও পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, শফিকুলের একটি সিম পাকিস্তানে ব্যবহৃত হয়েছিল অথবা সেখানে পৌঁছেছিল। অন্যদিকে, কোচবিহারের বাসিন্দা নুর নাসিরুদ্দিন আলির বিরুদ্ধে অভিযোগ, আকবরের কথায় নিজের পরিচয় ব্যবহার করে তিনি দুটি ভারতীয় সিম সংগ্রহ করেন। পরে সেই সিম দু’টি বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। তাঁর ফোন থেকেও আকবরের বাংলাদেশি নম্বর পাওয়া গিয়েছে।
এই চক্রে রশিদুল হককেও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে দেখছেন STF আধিকারিকরা। তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকার জাল নোট পাচারের সঙ্গে তাঁর যোগ ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, জাল নোটের এক সরবরাহকারী হিসেবে রশিদুল মিঠু বর্মনের নাম জানিয়েছেন। এছাড়াও ডাডা, হায়দার এবং বিশাল ওরফে কাঞ্চনের মতো কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।


