কলকাতা: ১৫ আগস্টের সকাল। হাতে জাতীয় পতাকা, উদ্দেশ্য স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া। কিন্তু আশুতোষ কলেজে পৌঁছেই পরিস্থিতি বদলে গেল। শুরু হল তুমুল উত্তেজনা, আর তার মধ্যেই কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেত্রী তথা টিএমসিপির সভানেত্রী উপাসনা চৌধুরীকে (Upasana Chowdhury) স্বাগত জানাতে উড়ে এলো একের পর এক ডিম!
দক্ষিণ কলকাতার আশুতোষ কলেজে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে গিয়েছিলেন উপাসনা ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন। অভিযোগ, কলেজের পরিচয়পত্র না থাকায় তাঁদের ভিতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ আধিকারিকরাও তাঁদের সামনে ভিড় না করার জন্য বলেন। তা নিয়েই শুরু হয় বচসা ও উত্তেজনা আর সেই উত্তেজনার মধ্যেই আচমকা ‘ডিম-বৃষ্টি’ (Egg Therapy)! উপাসনার (Upasana Chowdhury) অভিযোগ, একের পর এক ডিম এসে লাগে তাঁর মাথা ও গায়ে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে এসে ক্ষোভ উগরে দেন উপাসনা (Upasana Chowdhury)! তাঁর অভিযোগ, কলেজের ভিতরে বহিরাগতরা উপস্থিত থাকলেও তাঁদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করা হয়নি। অথচ তাঁরা জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য কলেজে পৌঁছতেই ‘বহিরাগত’ বলে আটকানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। উপাসনার আরও অভিযোগ, বিজেপি ও এবিভিপির সদস্যরাই তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়েছেন এবং পুলিশ হামলাকারীদের মদত দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
যদিও উপাসনার অভিযোগ মানতে নারাজ বিজেপি ও এবিভিপি। তাঁদের দাবি, এটি রাজনৈতিক হামলা নয়, বরং জনরোষের বহিঃপ্রকাশ। ফলে স্বাধীনতা দিবসের সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে আশুতোষ কলেজে যে ঘটনা ঘটল, তা এখন নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সব মিলিয়ে ১৫ আগস্টের সকালে আশুতোষ কলেজে পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি রীতিমতো পরিণত হল ‘ডিম-কাণ্ডে’। প্রশ্ন উঠছে, জাতীয় পতাকার অনুষ্ঠানে শেষ পর্যন্ত ডিম ছোড়াছুড়ি পর্যন্ত পরিস্থিতি গড়াল কীভাবে? আর এই ‘ডিম-বৃষ্টির’ (Egg Therapy) নেপথ্যে আসলে কারা? তদন্ত ও পাল্টা অভিযোগে এখন সেই উত্তরই খুঁজছে রাজনৈতিক মহল।


