কলকাতা: ১৯৪২-এর ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনে তমলুক ও মেদিনীপুরের মাটিতে স্বাধীনতার দাবিতে যে আগুন জ্বলে উঠেছিল, তার অন্যতম উজ্জ্বল প্রতীক ছিলেন শহিদ মাতঙ্গিনী হাজরা (Matangini Hazra)। হাতে জাতীয় পতাকা, বুকে অদম্য সাহস! ব্রিটিশ পুলিশের গুলির সামনে দাঁড়িয়েও পিছিয়ে যাননি ‘গান্ধীবুড়ি’ (Gandhi Buri)। তাঁর সেই আত্মত্যাগ আজও বাঙালির মনে দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।
স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই অগ্নিকন্যার (Matangini Hazra) স্মৃতি এবার নতুন করে সংরক্ষণের উদ্যোগ। দীর্ঘদিনের অযত্নে ভগ্নপ্রায় হয়ে পড়া তমলুকের মাতঙ্গিনী হাজরার বসতবাড়িকে হেরিটেজ মর্যাদা দেওয়ার জন্য হেরিটেজ কমিটির কাছে আবেদন জানাচ্ছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ। ইতিমধ্যেই জেলা পরিষদের আধিকারিকরা ঐতিহাসিক বাড়িটি পরিদর্শন করেছেন। প্রাচীন কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে কীভাবে বাড়িটিকে সংরক্ষণ করা যায়, তা নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা।
জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেব গুছাইত জানিয়েছেন, বাড়িটির দ্রুত হেরিটেজ স্বীকৃতির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সংরক্ষণ নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
শুধু সংরক্ষণ নয়, এই ঐতিহাসিক ভিটেকে নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার জীবন্ত পাঠশালা করে তুলতে নেওয়া হচ্ছে একাধিক পরিকল্পনা। বাড়িটিকে ঘিরে তৈরি হতে পারে স্মৃতি প্রদর্শন কেন্দ্র ও ডিজিটাল মিউজিয়াম। মাতঙ্গিনী হাজরার জীবন, তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর (Matangini Hazra) অবদানের দুর্লভ ছবি ও তথ্য ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে তুলে ধরা হবে দর্শনার্থীদের সামনে।
বাড়ির আশপাশে আলোকসজ্জা ও সৌন্দর্যায়নের পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য পানীয় জলের ব্যবস্থাও করা হবে। অর্থাৎ, ইতিহাসের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখেই সংরক্ষণ ও পর্যটনের মধ্যে তৈরি হবে নতুন সমন্বয়।
যে ভিটে একদিন স্বাধীনতার স্বপ্নে বুক বাঁধা এক অশীতিপর নারীর সাহসের সাক্ষী হয়েছিল, সেই ভিটেই এবার হয়ে উঠতে পারে দেশপ্রেম ও ইতিহাসচর্চার এক নতুন তীর্থক্ষেত্র। মাতঙ্গিনী হাজরার (Matangini Hazra) আত্মত্যাগ শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, নতুন প্রজন্মের কাছে তা হয়ে উঠুক স্বাধীনতার চেতনার জীবন্ত বার্তা।


