Aaj India Desk, নয়া দিল্লি: দিল্লির যন্তর মন্তরে দীর্ঘদিন ধরে অনশন চালিয়ে নিট আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছিলেন সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। সেই আন্দোলনের জেরে পদত্যাগও করেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এবার কি ফের দেশ জুড়ে আরেকটি আন্দোলন সংঘটিত হতে চলেছে ? শুক্রবার এমনই ইঙ্গিত দিলেন সোনম ওয়াংচুক। সমাজ মাধ্যমে একটি লেখা প্রকাশ করে তিনি জানান, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি সম্মানজনক ও শক্তিশালী দেশ হিসেবে ধরে রাখতে হলে নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ‘শান্তিপূর্ণ বিপ্লব’এর প্রয়োজন। এই পরিবর্তনের ভাবনা নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নির্ভীক, সৎ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ মানুষদের একত্রিত হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk) দাবি করেন, দেশের প্রায় অর্ধেক সাংসদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে এবং প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ওয়াংচুকের মতে, এই পরিস্থিতির ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, দেশের সবচেয়ে বড় ‘ডেফিসিট’ হলো মানুষের অবিশ্বাস।
এই পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ‘সেরা মনের মানুষদের’ নিয়ে আলোচনার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। তাঁর লক্ষ্য, দেশের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন, তা নিয়ে মতবিনিময় করা। তবে তিনি শুধু বুদ্ধিজীবী বা শিক্ষাবিদদের মধ্যে এই আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। তিনি এমন মানুষদের সামনে আসতে বলেন যাঁরা আত্মস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের জন্য ভাববে।
লাদাখে বসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের এমন ব্যক্তিদের খুঁজে পাওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন। তাই সাধারণ মানুষের কাছেই সাহায্য চেয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, “দেশের প্রতিটি অঞ্চল থেকে অন্তত একজন করে এমন ব্যক্তির নাম বলুন যাঁরা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।” এই উদ্যোগকে দেশের ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’-এ পরিণত করা সম্ভব হতে পারে বলেও আশাবাদী ওয়াংচুক।
স্বাধীনতার ৭৯ বছর পেরিয়ে ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে নানা আলোচনা চলছে, সেই সময় ওয়াংচুকের এই স্বাধীনতা আন্দোলনের ডাক দেশের নেতৃত্ব, নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


