Aaj India Desk, কলকাতা: বিচারপতির বিরুদ্ধে অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলায় (Criminal Case) কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court) । আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর (Justice Tapabrata Chakraborty) ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও বিচারপতির রায় পছন্দ না হলে তার বিরুদ্ধে আইনি পথে যাওয়া যেতে পারে। কিন্তু রায় নিয়ে আপত্তি থাকলেই বিচারপতিকে আক্রমণাত্মক বা অসম্মানজনক ভাষায় কথা বলা কোনও আইনজীবীর কাজ হতে পারে না।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত আইনজীবী তাঁর নিজের একটি মামলায় কাঙ্ক্ষিত অন্তর্বর্তী নির্দেশ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। এরপর এজলাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তিনি সংশ্লিষ্ট বিচারপতিকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি শুনানির সময় ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ওই মন্তব্য যে বিচারপতিকে লক্ষ্য করেই করা হয়েছিল, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। এমনকী, মন্তব্যটি উচ্চ আদালতের অন্যান্য বিচারপতিদের প্রতিও ইঙ্গিতপূর্ণ ছিল বলে আদালতের পর্যবেক্ষণ।
হাইকোর্টের বক্তব্য, অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন আইনজীবী। তাই আদালতের কোনও নির্দেশ বা রায় তাঁর পছন্দ না হলে সেই কারণে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিচারপতির সিদ্ধান্ত নিয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তার সমাধানের জন্য আইনি পথই অনুসরণ করতে হবে।
ডিভিশন বেঞ্চ আরও জানায়, এই ধরনের ঘটনায় আদালত নীরব থাকলে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে। তাতে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে, হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। আদালতের মতে, পেশাগত চাপ বা উত্তেজনার কারণে কেউ মেজাজ হারাতে পারেন। কিন্তু আদালতের ভিতরে বিচারপতির উদ্দেশে অশালীন ভাষা ব্যবহারকে কোনওভাবেই স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া যায় না।
আইনজীবী পেশার মর্যাদা এবং আইনজীবী সমাজের ভাবমূর্তি বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে আদালত। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত আইনজীবীকে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের সামনে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হতে পারে। আদালতের লাইভ স্ট্রিমিং চলাকালীনও তাঁকে নিজের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।
এর পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না—এই মর্মে লিখিত অঙ্গীকার বা হলফনামা জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। লিখিতভাবে ক্ষমাপ্রার্থনাও জানাতে হবে। তবে অভিযুক্তের ক্ষমাপ্রার্থনা এবং অঙ্গীকার আদালত গ্রহণ করবে কি না, তা সমস্ত দিক খতিয়ে দেখার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আদালত আরও জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত যদি ক্ষমাপ্রার্থনার ভিত্তিতে ওই আইনজীবীকে মামলা থেকে রেহাই দেওয়া হয়, তাহলেও এই ঘটনা উচ্চ আদালতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।
অর্থাৎ, কলকাতা হাইকোর্টের বার্তা স্পষ্ট—কোনও বিচারপতির রায়ের সঙ্গে একমত না হলে সেই রায়ের পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যায়, আইনি পথে চ্যালেঞ্জ করা যায়। কিন্তু বিচারপতিকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ বা অশালীন ভাষায় অপমান করার সুযোগ নেই। এই পর্যবেক্ষণের পর বিষয়টি নিয়ে আইনজীবী মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।


