নয়াদিল্লি: সংসদে দলত্যাগী সাংসদদের অযোগ্যতা থেকে শুরু করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশন, একাধিক ইস্যুতে এবার লোকসভার স্পিকারকে সরাসরি চাপে ফেললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিষয়গুলির নিষ্পত্তি না হলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। অভিষেকের অভিযোগ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশনের বিষয়টি প্রায় ২০ দিন আগে স্পিকারের কাছে তোলা হলেও এখনও কোনও সন্তোষজনক সিদ্ধান্ত মেলেনি।
তাঁর দাবি, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতিতেই অভিষেকের (Abhishek Banerjee) কড়া বার্তা, ‘আর অপেক্ষা নয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে’। তা না হলে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে হস্তক্ষেপ চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শুধু কল্যাণের সাসপেনশন নয়, দলত্যাগী সাংসদদের অযোগ্যতার আবেদন নিয়েও সরব অভিষেক। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট সাংসদদের বিরুদ্ধে জুন মাসেই পৃথকভাবে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। প্রায় দু’মাস কেটে গেলেও সেই আবেদনের কোনও নিষ্পত্তি হয়নি।
অভিষেকের (Abhishek Banerjee) বক্তব্য, সংবিধানের দশম তফসিল এবং সংশ্লিষ্ট বিচারবিভাগীয় নির্দেশ অনুযায়ী অযোগ্যতার আবেদন অনির্দিষ্টকাল ফেলে রাখা যায় না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না হলে তিনি সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পথেই হাঁটবেন।
এর পাশাপাশি সংসদে NCPI সাংসদদের আসন বিন্যাস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল সাংসদ (Abhishek Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, দলীয় অবস্থান বদলানো সাংসদদের এখনও পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি না দেওয়া হলেও তাঁদের তৃণমূল সাংসদদের পাশে বসানো হয়েছে। এমনকি তাঁদের বক্তব্যের সময়ও তৃণমূলের বরাদ্দ সময় থেকে কাটা হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। ফলে একসঙ্গে একাধিক ইস্যুতে স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছে তৃণমূল। কল্যাণের সাসপেনশন, দলত্যাগী সাংসদদের অযোগ্যতা এবং আসন বিন্যাস, তিন ইস্যুতেই এবার কি সংসদের গণ্ডি পেরিয়ে আদালতের দরজায় যাবে তৃণমূল? অভিষেকের হুঁশিয়ারির পর সেই প্রশ্নই জোরালো হচ্ছে।


