Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: ছাত্রদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনে বামপন্থী সংগঠনগুলির সক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। তবে সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-র সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা (Neha Bora)।
এক সাক্ষাৎকারে নেহা দাবি করেন , বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি কোনও আন্দোলন নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে না। বরং যে বিষয়গুলি নিয়ে সাধারণ মানুষ এবং ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে, সেগুলিই দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সামনে আনছেন। ফলে কোনও আন্দোলনে তাঁদের উপস্থিতি বা সক্রিয়তা বাড়লে সেটিকে ‘হাইজ্যাক’ বলা ঠিক নয় বলে তাঁর মত।
প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে হওয়া আন্দোলনের প্রসঙ্গও উঠে আসে সাক্ষাৎকারে। সেখানে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির অংশগ্রহণ নিয়ে একাংশ প্রশ্ন তুলেছিল। তাঁদের অভিযোগ ছিল, আন্দোলনের নেতৃত্ব নিজেদের রাজনৈতিক মতাদর্শের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই বাম ছাত্র নেতারা সক্রিয় হয়েছিলেন।
এই অভিযোগের জবাবে নেহা জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলন বাম ছাত্র সংগঠনগুলির কাছে নতুন কোনও বিষয় নয়। বহু বছর ধরে তাঁরা এই ইস্যুতে আন্দোলন করছেন। সেই আন্দোলনের জেরে সংগঠনের বহু কর্মীকে আটক করা হয়েছে, জেলে যেতে হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের কারণে সাধারণ মানুষ তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে জানেন। সেই বিশ্বাস থেকেই আন্দোলনের সময়ে মানুষ তাঁদের সামনে আসার সুযোগ দিয়েছেন। তাই বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে কোনও আন্দোলন দখলের চেষ্টা হিসেবে দেখার কারণ নেই।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবির ক্ষেত্রেও একই কথা জানিয়েছেন আইসা নেত্রী। তাঁর মতে, সমস্যাটি শুধুমাত্র একজন মন্ত্রীর পদে থাকা বা না থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা ব্যবস্থার যে কাঠামোগত সমস্যাগুলি রয়েছে, সেগুলির পরিবর্তন প্রয়োজন। মন্ত্রীর পদত্যাগ সেই বৃহত্তর পরিবর্তনের দাবিরই একটি অংশ। নেহা আরও দাবি করেন, বাম ছাত্র সংগঠনগুলি যে বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলে, তার সঙ্গে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের বাস্তব সমস্যার মিল রয়েছে। তাই তাঁদের বক্তব্য অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে।
এদিকে সংসদে অমিত শাহের বক্তব্য এবং পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ নিয়েও নিজের মত জানিয়েছেন নেহা। এই প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর প্রশ্নকে সমর্থন করেছেন তিনি। নেহার বক্তব্য, প্রতিবাদের সময় পেলেট গান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল, তার ব্যাখ্যা প্রয়োজন। কার নির্দেশে এই অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, প্রতিবাদ শুরুর দিন সকালে কারা তা সরবরাহ করেছিল এবং দায়িত্বে থাকা পুলিশ কমিশনারকে হঠাৎ কেন বদল করা হয়েছিল—এই প্রশ্নগুলিরও উত্তর চেয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে আইসা নেত্রীর দাবি, ছাত্রদের শিক্ষা, অধিকার এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা কোনও একটি দিনের ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা একাধিক সমস্যার ফলেই এই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাই ছাত্রদের বিভিন্ন আন্দোলনে পাশে থাকার অবস্থান থেকে তাঁরা সরে আসবেন না বলেই জানিয়েছেন নেহা।


