কলকাতা: একবার-দু’বার নয়, গত কয়েক মাসে পরপর ১৯ বার হুমকি ফোন! পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) দাবি, অধিকাংশ ফোনই এসেছে বাংলাদেশ থেকে। এমনকী কয়েকটি কলে তাঁকে বাংলাদেশের মুক্তমনা ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায়ের মতো পরিণতির হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
ঋতব্রতের (Ritabrata Banerjee) দাবি, হোয়াটসঅ্যাপ কলের মাধ্যমে তাঁকে একাধিকবার ভয় দেখানো হয়েছে। ফোনগুলির উৎস বাংলাদেশ বলে তাঁর সন্দেহ। বিষয়টি হালকাভাবে না নিয়ে মঙ্গলবার রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে লিখিত অভিযোগও জানিয়েছেন তিনি। এখন প্রশ্ন, পরপর এতগুলি ফোনের নেপথ্যে কে? সত্যিই কি বাংলাদেশ থেকে ফোনগুলি করা হয়েছিল, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও চক্র?
অভিজিৎ রায়ের নাম উঠে আসায় অভিযোগটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ২০১৫ সালে ঢাকার একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে হামলায় নিহত হন অভিজিৎ রায়। মুক্তচিন্তা, যুক্তিবাদ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে লেখালেখির জন্য পরিচিত এই ব্লগারের হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক স্তরেও ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছিল। ঋতব্রতের (Ritabrata Banerjee) অভিযোগ, তাঁকেও সেই হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে ভয় দেখানো হয়েছে। তবে হুমকি ফোনগুলির প্রকৃত উৎস, কলদাতাদের পরিচয় এবং তাঁদের উদ্দেশ্য এখনও তদন্তসাপেক্ষ। ফলে অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংগঠনকে দায়ী করা যাচ্ছে না।
এর মধ্যেই রাজ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি বর্ধমান থেকে জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে হামিম মণ্ডল ও আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি ঘিরে এমন কথাও সামনে এসেছে যে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি ও নিরাপত্তা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা হয়েছিল।
এই আবহেই বিরোধী দলনেতার (Ritabrata Banerjee) কাছে ১৯টি হুমকি ফোনের অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে নতুন কৌতূহল তৈরি করেছে। দুটি ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তার কোনও প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। কিন্তু একই সময়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে সতর্ক প্রশাসন।
এখন নজর পুলিশের তদন্তের দিকে। ফোনগুলির নম্বর, কলের উৎস, ব্যবহৃত অ্যাকাউন্ট এবং হুমকির পিছনে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা গেলে তবেই পরিষ্কার হবে, এটি নিছক ভয় দেখানোর চেষ্টা, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও বড় কোনও পরিকল্পনা।


