Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: আজ দেশের গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষকে কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ করে দিতে চালু হয়েছিল আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প (Ayushman Bharat Yojana)। কিন্তু সেই প্রকল্পের টাকা নিয়ে এবার বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। ভুয়ো বিল তৈরি করা, একই চিকিৎসার জন্য একাধিকবার টাকা দাবি করা এবং প্রকল্পের নিয়ম না মেনে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার মতো অভিযোগ উঠেছে বেশ কিছু হাসপাতালের বিরুদ্ধে।
এই অভিযোগের তদন্তের পর কড়া পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের তালিকা থেকে ২,৩৫৯টি হাসপাতালকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১,২০০টি হাসপাতালের পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার লোকসভায় লিখিত জবাবে এই তথ্য জানান কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডা (J. P. Nadda)। তিনি জানান, অভিযুক্ত হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে ভুয়ো বিল এবং ডুপ্লিকেট ক্লেম জমা দেওয়ার মতো অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ২৯টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
শুধু হাসপাতালগুলিকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া বা সাসপেন্ড করাই নয়, আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, অনিয়ম এবং বেআইনি বিলের অভিযোগে মোট ৩২৮.৪৯ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩,৫০০-রও বেশি হাসপাতালের বিরুদ্ধে কোনও না কোনও ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই ধরনের অনিয়ম চিহ্নিত করতে প্রযুক্তির সাহায্যও নিচ্ছে কেন্দ্র। ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি বা NHA কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে সন্দেহজনক বিল ও লেনদেন খুঁজে বের করছে। একই চিকিৎসার জন্য বারবার ক্লেম করা হয়েছে কি না, কিংবা কোনও বিল নিয়ে সন্দেহ রয়েছে কি না, প্রযুক্তির মাধ্যমে তা দ্রুত শনাক্ত করা হচ্ছে।
কেন্দ্রের দাবি, এই নজরদারির ফলে চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৬৭৬.১৬ কোটি টাকার সম্ভাব্য আর্থিক অপচয় আটকানো সম্ভব হয়েছে। এর ফলে সরকারি অর্থের অপব্যবহার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
২০১৮ সালে চালু হওয়া আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলি বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পেতে পারে। বর্তমানে দেশের ৩৪ হাজারেরও বেশি হাসপাতাল এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত।
তবে প্রকল্পের আওতায় থাকা হাসপাতালগুলির একাংশের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসায় এখন নজরদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে। কেন্দ্রের লক্ষ্য, সরকারি প্রকল্পের টাকা যাতে কোনওভাবেই অপব্যবহার না হয় এবং প্রকৃত উপভোক্তারা যাতে ঠিকমতো চিকিৎসার সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করা।


