Aaj India Desk, কলকাতা : দুইবছর পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে আরজি কর-কাণ্ডের (RG Kar Case) তদন্ত। রাজ্যে সরকার বদল হওয়ার পর চিকিৎসক-পড়ুয়ার ধর্ষণ ও মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে এফআইআর দায়ের করেছিলেন নির্যাতিতার বাবা। অভিযোগে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, তথ্যপ্রমাণ লোপাট-সহ একাধিক গুরুতর বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল। ঘটনার দিন তড়িঘড়ি দেহদাহ কেন করা হয়েছিল, সেই প্রশ্নও নতুন তদন্তের কেন্দ্রে ছিল। এরপর গতকাল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পরেই ফের ঘটনার তদন্তে উঠে এলো কিছু বিস্ফোরক নাম।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরই নতুন এফআইআর
রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির লোকসংস্কৃতি ভবনে নিহত চিকিৎসকের (RG Kar Case) দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। সেখানে চিকিৎসকের মা-বাবার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। স্মরণসভা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী কমিটি গঠন করা হবে। নতুন করে মামলা দায়ের করে সেই মামলার ভিত্তিতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি। এর পরের দিন, সোমবার ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতার বাবা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই নতুন এফআইআর দায়ের করা হয়।
দেহদাহের সময়েই অনিয়মের অভিযোগ
নতুন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে ঘটনার দিন দেহদাহের প্রক্রিয়া। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ঘোলা থানার অন্তর্গত নাটাগড় কদমতলা শ্মশানে নিয়ম মেনে দেহদাহ করা হয়নি। তাঁর দাবি, দেহদাহের সিরিয়াল প্রথমে তিন নম্বরে ছিল। পরে তা পরিবর্তন করে এক নম্বর করা হয় এবং দ্রুত দেহদাহ সম্পন্ন করা হয়। পরিবারের কাছ থেকে শ্মশানের নির্ধারিত খরচ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
দেহদাহের সময় মৃতার পরিবারের কোনও নিকটাত্মীয়ের বাধ্যতামূলক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে প্রশাসন। কেন এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি, নতুন তদন্তে তা খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া দেহদাহের খরচ পরিবারকে দিতে হয়নি কেন, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
কাদের নাম ঘিরে অভিযোগ ?
দেহদাহের সময় তৎকালীন পানিহাটি তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ওই সময় তাঁদের ভূমিকা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এর পরেই ওই তিনজন-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। (RG Kar Case)
উল্লেখ্য, কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে পুলিশের শীর্ষ তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। এবার এই তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্তে কি সত্য উঠে আসে এবং কি ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেটাই দেখার।


