Aaj India Desk, কলকাতা : হালিশহরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ ও কাদা-জুতো ছোড়ার ঘটনায় ফের প্রকাশ্যে এলো বিজেপির অন্দরে মতের ফারাক। বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) ঘটনার নিন্দা করে স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনও মহিলা নেত্রীর গাড়িতে হামলাকে বিজেপি সমর্থন করে না এবং এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। অন্যদিকে, দিলীপ ঘোষ ঘটনার মধ্যে অন্যায় দেখছেন না বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী দল হিসেবে বিজেপির উপর অতীতে যে হামলা ও অত্যাচার হয়েছে, তার প্রেক্ষিতও দেখা উচিত।
শমীকের নিন্দা, বিজেপির দায় অস্বীকার
রবিবার হালিশহরে মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে বিক্ষোভের মুখে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ও জুতো ছোড়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। তবে সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু কোনও মহিলা নেত্রীর গাড়িতে হামলা সমর্থনযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই।
‘শমীকও ঠিক, আমিও ঠিক’
শমীকের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ বলেন, শমীক দলের নীতির কথা বলেছেন এবং তাঁর নিজের অবস্থানও তিনি জানিয়েছেন। দু’জনের বক্তব্যের মধ্যে বিরোধ দেখছেন না দিলীপ। দিলীপের কথায়, “শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) পার্টির নীতির কথা বলেছেন। উনি ঠিক। আবার আমিও ঠিক। কেউ না বুঝলে আমার কাছে পাঠিয়ে দেবেন।”
‘আমি নিজে ইট খেয়েছি’
দিলীপ ঘোষ আরও দাবি করেন, বিরোধী রাজনীতির সময়ে তাঁর উপর একাধিকবার হামলা হয়েছে এবং তাঁর গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “আমি নিজে ইট খেয়েছি। আমার গায়ে এখনও দাগ আছে। আমার বহুবার গাড়ি ভেঙেছে।” ডায়মন্ড হারবারে বিজেপির দুই জেলা সভাপতিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। অতীতের সেই ঘটনাগুলির সময় রাজনৈতিক মহলের অনেকেই প্রতিবাদ করেননি বলেও অভিযোগ দিলীপের।
মমতার গাড়িতে ডিম ছোড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের তরফে ‘বুমেরাং’-এর হুঁশিয়ারি নিয়েও মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষের মধ্যে এখনও মানবিকতা যায়নি। তাই ইটের বদলে ডিম মারছে।” এরপরই আরও বিতর্কিত মন্তব্য করে তাঁর দাবি, “মারা উচিত ইট। আমি সমর্থন করব ইট মারলে।”
একদিকে শমীক ভট্টাচার্য হামলার নিন্দা করে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। অন্যদিকে দিলীপ ঘোষ অতীতের রাজনৈতিক সংঘর্ষের প্রসঙ্গ তুলে ঘটনাটিকে সমর্থনযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। ফলে দিলীপের এই ‘দাবাং’ মন্তব্যের পর বিজেপির অভ্যন্তরীণ অবস্থান নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।


