Aaj India Desk,পশ্চিম মেদিনীপুর : মহিলাদের জন্য চালু হওয়া অন্নপূর্ণা যোজনায় প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা পাওয়ার কথা। সেই টাকার আশাতেই প্রতারণার ফাঁদে পড়ে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়লেন পশ্চিম মেদিনীপুরের এক গৃহবধূ। অভিযোগ, যোজনার টাকা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পাশাপাশি হ্যাক করে নেওয়া হয়েছে ফোনের একাধিক পরিষেবাও।
বিডিও অফিসের পরিচয় দিয়ে ফোন
ঘটনাটি পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা ১ নম্বর ব্লকের বাঁকা ভবানীপুর এলাকার। অভিযোগকারী গৃহবধূ রিঙ্কু মণ্ডলের দাবি, শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ তাঁর মোবাইলে একটি ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে নিজেকে বিডিও অফিসের কর্মী বলে পরিচয় দেওয়া হয়। বলা হয়, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য তাঁর ভেরিফিকেশন করা হবে।
এরপর তাঁকে জানানো হয়, যোজনার প্রথম কিস্তির টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢুকলেও দ্বিতীয় কিস্তির টাকা এখনও জমা পড়েনি। টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে তাঁকে একটি UPI নম্বরে কিছু টাকা পাঠাতে বলা হয়। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে দাবি করা হয়, ওই টাকা পরে তাঁকে ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে।
টাকা পাঠাতেই বিপত্তি
রিঙ্কুর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বাস করে তিনি ওই UPI নম্বরে টাকা পাঠান। এরপর তাঁকে আরও টাকা পাঠাতে বলা হয়। কিন্তু দ্বিতীয়বার টাকা পাঠাতে রাজি না হওয়াতেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়। অভিযোগ, আচমকাই তাঁর ফোনে সমস্যা শুরু হয় এবং ফোনটি কার্যত কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
শূন্য ব্যালেন্স, হ্যাক WhatsApp-সহ অনলাইন লেনদেন
গৃহবধূর দাবি, এরপর তাঁর WhatsApp এবং অনলাইন লেনদেনের পরিষেবাগুলিতেও সমস্যা দেখা দেয়। PhonePe-সহ UPI পরিষেবা হ্যাক হয়ে যায় বলে অভিযোগ তাঁর। এমনকী, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা টাকাও আর দেখতে পাননি তিনি। তাঁর দাবি, অ্যাকাউন্টের সমস্ত টাকা চলে গিয়ে ব্যালেন্স শূন্য হয়ে যায়।
যে নম্বর থেকে ফোন এসেছিল, সেখানে পাল্টা যোগাযোগের চেষ্টা করেন রিঙ্কু। ফোন ধরা হলেও অপর প্রান্ত থেকে কোনও কথা না বলে কল কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
পুলিশের দ্বারস্থ গৃহবধূ
ঘটনার পর পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন রিঙ্কু। তাঁর দাবি, পুলিশ সাইবার দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়। তবে এখনও পর্যন্ত সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। ফোন, WhatsApp এবং PhonePe সবকিছু নিয়েই সমস্যায় রয়েছেন ওই গৃহবধূ।
অন্নপূর্ণা যোজনার মতো সরকারি প্রকল্পের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগ নতুন করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক হওয়ার বার্তা দিচ্ছে। অপরিচিত ফোনে কোনও সরকারি আধিকারিকের পরিচয় দেওয়া হলেও ব্যক্তিগত তথ্য, OTP, UPI PIN বা কোনও ধরনের টাকা পাঠানোর আগে অবশ্যই বিষয়টি যাচাই করা জরুরি।


