Aaj India Desk, কলকাতা: দেখতে দেখতে কেটে গেল দু’বছর। ৯ অগাস্টের সেই ভয়াবহ রাত এখনও মানুষের মনে দাগ কেটে রয়েছে। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের (RG Kar Rape Murder Case) ঘটনার দু’বছর পূর্ণ হল রবিবার। এই উপলক্ষে রাজ্য সরকারের নির্দেশে রবিবার সকালে রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে দুই মিনিট নীরবতা পালন (Observe Silence) করা হয়। নির্যাতিতা চিকিৎসককে স্মরণ করে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন চিকিৎসক, নার্স-সহ স্বাস্থ্যকর্মীরা।
এর মধ্যেই আরজি কর কাণ্ডের তদন্ত নিয়ে ফের সরব হলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Sharadwat Mukherjee)। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে জেরার প্রসঙ্গও। যদিও তিনি সরাসরি কারও নাম করেননি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আসা জরুরি। তাঁর কথায়, “সত্য যাতে সামনে আসে সেটা আমরা চাইব। আমরা দায়বদ্ধ এই ঘটনায় সত্যি আসুক। কার নির্দেশে তথ্য প্রমাণ লোপাট হয়েছিল। সেগুলো তদন্তকারী সংস্থা যাতে খুঁজে বের করেন সেটা আমরা চাইব। তদন্তের প্রয়োজনে তাদের যদি মনে হয় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে জেরা করা প্রয়োজন তবে করা হোক।”
শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের দাবি, ঘটনার দিন কারা সেখানে এসেছিলেন এবং কেন এসেছিলেন, সেই বিষয়গুলিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া দরকার। তিনি বলেন, “প্রচুর নাম সামনে এসেছে। তারা সেদিন কেন এসেছিলেন। সেগুলো সামনে আসুক আমরা চাই। স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে যতটুকু আমাদের পক্ষে করা সম্ভব, আমরা সাহায্য করছি।” স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কোনও মেয়েকে এই ধরনের ঘটনার শিকার হতে না হয়, তার জন্য সরকার বদ্ধপরিকর। তাঁর কথায়, “আমরা সংকল্পবদ্ধ। আমরা সংকল্প নিয়েছি, কোনও মেয়ের সঙ্গে এই ঘটনা যেন না ঘটে।”
শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকের পরই আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসককে স্মরণ করে সরকারের পক্ষ থেকে কী কী কর্মসূচি নেওয়া হবে, তা নিয়ে বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় পানিহাটিতে নির্যাতিতার বাড়িতেও যেতে পারেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ অগাস্টের ভোরে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত এক তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। তাঁকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ঘিরে পরবর্তীতে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়। ঘটনাটি শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা দেশের মানুষকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। দু’বছর পর সেই ঘটনাকে স্মরণ করে এবার রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানেই সরকারি উদ্যোগে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হল।


