Aaj India Desk, কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছে আগেই। লোকসভার নথিতে এখনও তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সাংসদ হিসেবেই রয়েছেন। তবে ইতিমধ্যেই এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)। এর মধ্যেই তাঁর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। পোস্টে কাকলি লিখেছেন, মানুষ চিনতে গিয়ে তিনি বড় ভুল করেছেন। তবে কাকে উদ্দেশ্য করে তিনি এই মন্তব্য করেছেন, তা স্পষ্ট করেননি।
শুক্রবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনে আয়োজিত প্রাতরাশ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনসিপিআই-এর সাংসদরা। এনডিএ-র অন্যান্য শরিক দলের সাংসদদের পাশাপাশি সেখানে দেখা যায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায় এবং রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো সাংসদদেরও। এই বৈঠকের ঠিক একদিন পরেই কাকলির এমন ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কাকলির প্রথম পোস্টে লেখা ছিল, ‘মানুষ চিনতে এত ভুল করলাম। একটাই তো জীবন, ধ্বংস হয়ে গেল।’ কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য সেই পোস্টটি তিনি বদলে দেন। সংশোধিত পোস্টে তিনি লেখেন, ‘চল্লিশ বছর ধরে মানুষ চিনতে এত ভুল করলাম। একটাই তো জীবন, জীবনটা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছিল।’
এই পরিবর্তনই জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাহলে কি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে বিশ্বাস করে তিনি হতাশ হয়েছেন? তাঁর এই পোস্টের নিশানায় কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা কালীঘাট ঘনিষ্ঠ মহলের কেউ? নাকি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে এনসিপিআই-এর কোনও সদস্যকে নিয়েই তাঁর ক্ষোভ? আপাতত সেই উত্তর মেলেনি।
এদিকে শুক্রবারই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন এনসিপিআই-এর দুই সাংসদ খলিলুর রহমান ও আবু তাহের। বৈঠকের পর তাঁরা জানান, লোকসভার স্পিকার এখনও তাঁদের সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হিসেবেই উল্লেখ করছেন। সংসদে বক্তব্য রাখার সময়ও তাঁদের নামের পাশে এআইটিসি-র নামই থাকছে। অর্থাৎ দলবদলের রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হলেও সরকারি নথিতে এখনও তার পুরো প্রতিফলন ঘটেনি। পাশাপাশি, কাগজে-কলমে এনসিপিআই এখনও এনডিএ-র আনুষ্ঠানিক শরিক হয়নি।
এর মধ্যেই শুক্রবারের প্রাতরাশ বৈঠকে এনসিপিআই সাংসদদের পাশে থাকার বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “এনডিএ হল একটি ঐক্যবদ্ধ পরিবার। আমরা প্রতিটি শরিক দলের পাশে রয়েছি। কোনও একক দলের কথা নয়, এনডিএ-র প্রতিটি সাংসদের সঙ্গেই আমি ব্যক্তিগতভাবে দাঁড়িয়ে আছি। আপনাদের কোনও বিষয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই, প্রত্যেকেই উপযুক্ত সম্মান ও কাজের সুযোগ পাবেন।”
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক সাংসদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেন। তাঁদের শারীরিক অবস্থা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও খোঁজখবর নেন। আর এর ঠিক পরেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ‘মানুষ চিনতে ভুল’ সংক্রান্ত পোস্ট প্রকাশ্যে আসায় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে তিনি ঠিক কাকে ইঙ্গিত করে এই মন্তব্য করেছেন, তার উত্তর এখনও অধরাই।


