Aaj India Desk, কলকাতা: স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে শ্লীলতাহানির মামলায় এবার বড়সড় পরিবর্তন। যে মেকআপ আর্টিস্টের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা ঘিরে এতদিন আলোচনা চলছিল, সেই সিমরন পালই এবার জানালেন, স্বরূপ বিশ্বাস তাঁর সঙ্গে কোনও ধরনের শ্লীলতাহানি করেননি। শুধু তাই নয়, দু’জনের মধ্যে কোনওদিন সামনাসামনি দেখাও হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।
শুক্রবার গভীর রাতে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে নিজের অবস্থান জানান সিমরন। সেখানেই তিনি জানান, স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি তিনি প্রত্যাহার করেছেন।
‘কিছু মানুষের কথায় বিশ্বাস করেই অভিযোগ’
নিজের ভিডিয়ো বার্তায় সিমরনের দাবি, কয়েকজনের কথায় বিশ্বাস করেই তিনি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁকে মিথ্যা অভিযোগ করতে বলা হয়েছিল। তবে স্বরূপ তাঁকে শ্লীলতাহানি করেছেন—এমন কথা তিনি কখনও বলেননি বলেই দাবি করেছেন সিমরন।
এখানেই শেষ নয়। যে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা শুরু হয়েছিল, সেটিও তাঁর নিজের লেখা নয় বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, কাগজটিতে তাঁর সই থাকলেও চাপ সৃষ্টি করে তাঁকে সেখানে সই করানো হয়েছিল।
‘স্বরূপকে আমি চিনি না’
সিমরনের দাবি, স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর কোনও পরিচয় নেই। এমনকি স্বরূপও তাঁকে চেনেন না বলেই দাবি করেছেন তিনি। নিউ আলিপুর থানায় দেওয়া তাঁর বক্তব্যেও মূল অভিযোগ ছিল অন্য দু’জনকে ঘিরে—শান্তনু দে এবং বাপি মালাকার।
সিমরনের অভিযোগ, ওই দু’জন তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে হুমকি দিয়েছিলেন। এমনকি গুলি করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।
‘আমার মূল অভিযোগ ছিল অন্যদের বিরুদ্ধে’
স্বরূপ বিশ্বাস কীভাবে এই মামলায় জড়িয়ে পড়লেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সিমরন। তাঁর বক্তব্য, তাঁর আসল অভিযোগ ছিল শান্তনু দে এবং বাপি মালাকারের বিরুদ্ধে। স্বরূপ বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে বিষয়টি তৈরি হয়নি বলেই দাবি তাঁর।
স্বরূপের গ্রেফতারের খবর পরে জানতে পেরে তিনি খারাপ পেয়েছিলেন বলেও ভিডিয়ো বার্তায় জানান সিমরন।
মামলা প্রত্যাহার, স্বরূপের কাছে ক্ষমা
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে সিমরন জানিয়েছেন, স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে করা মামলা তিনি তুলে নিয়েছেন। সমাজমাধ্যমে ভিডিয়োর সঙ্গে দেওয়া পোস্টেও একই দাবি করেছেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য, কয়েকজনের প্ররোচনা এবং ভুল বোঝানোর কারণেই তিনি প্রথমে অভিযোগ করেছিলেন। পরে বিষয়টি বুঝতে পারলেও ভয় ও পরিস্থিতির কারণে দ্রুত মামলা প্রত্যাহার করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত সাহস করে মামলা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
স্বরূপ বিশ্বাসের কাছেও ক্ষমা চেয়েছেন সিমরন। তাঁর দাবি, তাঁর অভিযোগের কারণে স্বরূপকে অকারণে জেল খাটতে হয়েছে এবং তাঁর সম্মানহানি হয়েছে।
কারা অভিযোগ করিয়েছিল, নাম জানাতে নারাজ
তবে কারা তাঁকে দিয়ে অভিযোগ করিয়েছিল, তাঁদের নাম প্রকাশ্যে আনতে চাননি সিমরন। তিনি জানিয়েছেন, আর কোনও ঝামেলা বা অশান্তির মধ্যে যেতে চান না। এখন নিজের কাজেই মন দিতে চান।
মামলার পরবর্তী আইনি অবস্থার দিকে নজর
২০২৬ সালের জুনে শ্লীলতাহানি, তোলাবাজি এবং অস্ত্র আইনে অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশ স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছিল। সেই ঘটনায় সিমরনের অভিযোগও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।
এখন অভিযোগকারীর নতুন ভিডিয়ো, বয়ান পরিবর্তন এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গোটা ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও মামলাটির আইনি অবস্থান কী এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেদিকেই এখন নজর। অভিযোগকারীর নতুন দাবির পর তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ায় কী প্রভাব পড়ে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


