কলকাতা: শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রেকফাস্ট আবার সন্ধেয় শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ‘সান্ধ্য টিফিন’ বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূল-ত্যাগী সাংসদরা। কিন্তু দুটি বৈঠকেই দেখা যায়নি ঘাটালের সাংসদ দেবকে (Dev)। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তুমুল জল্পনা। প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি NCPI-র এই শিবিরের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছে? নাকি দলীয় সমীকরণে অন্য কোনও হিসাব রয়েছে? এবার যাবতীয় জল্পনায় জল ঢেলে অনুপস্থিতির কারণ নিজেই জানালেন অভিনেতা-সাংসদ দেব (Dev)।
কেন গেলেন না দেব?
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ঘাটালের সাংসদ (Dev) জানান, পূর্বনির্ধারিত শুটিংয়ের ব্যস্ততার কারণেই তিনি শুক্রবারের দু’টি বৈঠকেই উপস্থিত থাকতে পারেননি। অর্থাৎ, তাঁর অনুপস্থিতির সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্বের কোনও সম্পর্ক নেই! এমনটাই তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট।
X Link: https://x.com/idevadhikari/status/2085679435106369891?s=20
শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ব্রেকফাস্ট বৈঠকটি রাজনৈতিক ভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। তৃণমূল থেকে বেরিয়ে NCPI-তে যোগ দেওয়া সাংসদদের একাংশ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ফলে দেবের (Dev) অনুপস্থিতি আরও বেশি করে নজরে আসে। এর আগে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে NCPI নেতাদের বৈঠকেও তাঁকে দেখা যায়নি। দু’টি জায়গাতেই একই মুখের অনুপস্থিতি থেকেই তৈরি হয়েছিল নানা প্রশ্ন।
প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা
দেবের (Dev) বক্তব্য, পূর্বনির্ধারিত শুটিংয়ের প্রতিশ্রুতির কারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্রেকফাস্ট মিটিং এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য তিনি আগ্রহী বলেও জানিয়েছেন। একইসঙ্গে রাজ্যের উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং মানুষের কল্যাণে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন ঘাটালের সাংসদ (Dev)।
এদিকে শুক্রবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিটের ব্রেকফাস্ট বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ১৯ জন NCPI সাংসদ। তাঁদের মধ্যে একমাত্র অনুপস্থিত ছিলেন দেব। বৈঠকে রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সাংসদদের স্বাস্থ্য নিয়েও পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। ৪০ বছর পেরোলেই নিয়মিত মেডিক্যাল চেক-আপ এবং যোগাভ্যাসের পরামর্শ দেন তিনি। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও শতাব্দী রায়ের কথাতেও উঠে এসেছে সেই প্রসঙ্গ। শতাব্দী জানান, ব্রেকফাস্টে নিরামিষ খাবারের আয়োজন ছিল এবং প্রধানমন্ত্রী নিজে শুধু চা পান করেন। সাংসদরা পায়েসও খান।
রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এমন ঘরোয়া পরিবেশে বসে চা খাওয়া, গল্প করা ও পরামর্শ পাওয়া তাঁদের কাছে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। তাঁর মতে, এই বৈঠক ভোলার নয়। অন্যদিকে, বৈঠকে উপস্থিত বিদ্রোহী সাংসদদের প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, “চিন্তা করবেন না, আমি পাশে আছি।” ফলে দেবের (Dev) অনুপস্থিতির কারণ নিয়ে আপাতত রাজনৈতিক জল্পনায় ইতি পড়লেও, তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কৌতূহল কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।


