Aaj India Desk, কলকাতা: শুক্রবার বিকেলে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক SIR বা ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই শুক্রবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে নব্য তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। সূত্রের খবর, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়া এবং বহু ভোটারকে ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর জেরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়েই মূলত এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধানে একাধিক দাবি জানানো হবে।
কুণাল ঘোষকে নিয়ে কী বললেন ঋতব্রত?
বৈঠকের আগেই বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। তিনি বলেন, “আগামিকাল ১২ জন নয়। সংখ্যা বেশি হতে পারে, কমও হতে পারে। কুণাল ঘোষ আমাদের যোগাযোগে আছেন। উনি যা বলছেন বলুন, আমাদের অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছেন। ওঁকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে সবাই একসঙ্গে নেবে। কাল কী হয়, সেটাই দেখা যাবে।” তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
ভোটার তালিকা নিয়ে নব্য তৃণমূলের দাবি
নব্য তৃণমূলের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় প্রায় ২৭ থেকে ৩২ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে অথবা তাঁদের নথি যাচাইয়ের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে। এর ফলে বহু সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের দূর-দূরান্তে গিয়ে প্রশাসনিক দফতর ও ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ—দুইয়েরই ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।
জেলা স্তরে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও হেল্প ডেস্কের দাবি
এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি জেলায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালত গঠনের দাবি জানাতে চলেছে নব্য তৃণমূল। একইসঙ্গে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত নিয়ম, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং যাচাই প্রক্রিয়া সম্পর্কে মানুষকে সহায়তা করতে প্রতিটি জেলা কার্যালয়ে বিশেষ হেল্প ডেস্ক চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হবে। পাশাপাশি যাচাই প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করার দাবিও জানানো হবে, যাতে প্রবীণ নাগরিক ও সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ হয়রানির মুখে না পড়তে হয়।
SIR ইস্যুতে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র
SIR ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া লাইভেও তিনি দাবি করেন, যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় ওঠেনি, তাঁদের অধিকার রক্ষার লড়াই তাঁরাই করছেন। সেই প্রেক্ষাপটে নব্য তৃণমূলও নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও জোরালো করতে এবং প্রান্তিক মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিতে শুক্রবারের বৈঠকে একাধিক দাবি তুলে ধরতে চলেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠক রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিতও দিতে পারে।


