Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে প্রথমবার সাসপেন্ড হলেন কোনও মার্শাল। বিধানসভার মার্শাল ও সিকিউরিটি অফিসার দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের (Debabrata Mukhopadhyay) বিরুদ্ধে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ও কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বিধানসভা সচিবালয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
কী অভিযোগ উঠল?
সম্প্রতি ১৮তম বিধানসভার নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে একটি ওরিয়েন্টেশন বা পরিচিতি শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাও। এত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও মার্শাল দেবব্রত মুখোপাধ্যায় নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি। তাঁর আচরণ ও ব্যবহার নিয়ে একাধিক বিধায়ক অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বেশ কয়েকজন বিধায়ক অভিযোগ করেন, তাঁদের সঙ্গে দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের ব্যবহার শালীন ও পেশাদারসুলভ ছিল না। প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও তাঁরা পাননি। শুধু মৌখিকভাবেই নয়, বিষয়টি নিয়ে শাসক দলের মুখ্য সচেতকের কাছেও লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি, অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সরকারি পদে থেকে প্রত্যাশিত শিষ্টাচার বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। বিধানসভা সূত্রের দাবি, একাধিক অভিযোগ সামনে আসার পরই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয় বিধানসভা সচিবালয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ
বিধানসভার সচিবালয়ের জারি করা সরকারি বিজ্ঞপ্তি (নং ৯১১ L.A/Estab.) অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শৃঙ্খলাবিধির ১০ নম্বর ধারা অনুসারে দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের (Debabrata Mukhopadhyay) বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিধির ৭(১)(এ) ধারা অনুযায়ী তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
সাসপেনশন চলাকালীন বিধানসভার সার্ভিস রুল অনুযায়ী তিনি জীবনধারণের জন্য নির্ধারিত ভাতা পাবেন। বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এস. এন. দাসের স্বাক্ষরিত নির্দেশ ইতিমধ্যেই অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল, অর্থ দফতর-সহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিতে পাঠানো হয়েছে। তবে বিধানসভার দীর্ঘ ইতিহাসে এর আগে কোনও মার্শালকে এভাবে সাসপেন্ড করার নজির নেই। ফলে এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।


