Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা : বুধবার ১ কোটি টাকা তোলাবাজির অভিযোগে বিধাননগর পূর্ব থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ও তৃণমূল নেত্রী কৃষ্ণা চক্রবর্তীর (Krishna Chakraborty) বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী এনআরআই দীপঙ্কর সেনগুপ্তের আইনজীবী বিকাশ কোঠারি দাবি করেছেন, দীপঙ্করের সল্টলেকের বাড়ি খালি করে দেওয়ার বিনিময়ে কৃষ্ণা চক্রবর্তী এক কোটি টাকা দাবি করেছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করেছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে কৃষ্ণা চক্রবর্তীর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এফআইআর-এ কী অভিযোগ?
অভিযোগ অনুযায়ী, পর্তুগাল-প্রবাসী দীপঙ্কর সেনগুপ্তর সি জে ব্লকের বাড়ির একাংশে কয়েক বছর আগে আত্মীয়ের অনুরোধে শ্রীজানি ভট্টাচার্য মুখোপাধ্যায় নামে এক মহিলাকে থাকতে দেওয়া হয়েছিল। পরে বাড়ি খালি করতে বলা হলে তিনি তা অস্বীকার করেন এবং নিজেকে কৃষ্ণা চক্রবর্তীর (Krishna Chakraborty) ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দিয়ে হুমকি দেন। এরপর দীপঙ্কর সেনগুপ্তের আইনজীবী বিকাশ কোঠারি ৩০ জুলাই বিধাননগর পূর্ব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ এফআইআর নথিভুক্ত করেছে।
‘বাড়ি ছাড়াতে ১ কোটি টাকা’র দাবি
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে দীপঙ্কর দেশে ফিরে বাড়ি খালি করতে বললেও কোনও ফল হয়নি। এরপর ২০২৫ সালের শেষ দিকে বিকাশ কোঠারির কাছে একটি ফোন আসে। সেই ফোনে কৃষ্ণা চক্রবর্তী (Krishna Chakraborty) নিজেকে বিধাননগরের মেয়র পরিচয় দিয়ে বাড়ি ছাড়াতে এক কোটি টাকা দাবি করেন। এরপর পাঁচ লক্ষ টাকা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে তুলে দিতে বলা হয়। তা না হলে বাড়িতে প্রবেশ করা বিপজ্জনক হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
বিকাশ কোঠারির অভিযোগ, তৎকালীন পরিস্থিতিতে অন্য কোনও উপায় না দেখে তিনি বাড়িতে গিয়ে শ্রীজানির উপস্থিতিতে পাঁচ লক্ষ টাকা কৃষ্ণা চক্রবর্তীর লোকেদের হাতে তুলে দেন। এরপর চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ফের বাড়ি খালি করতে বলা হলে শ্রীজানি নাকি জানান, এক কোটি টাকা না পেলে তিনি বাড়ি ছাড়বেন না। গত জুন মাসে শ্রীজানির হোয়াটসঅ্যাপ কল থেকে আবার কৃষ্ণা চক্রবর্তীর সঙ্গে কথা হয়। সেখানে ফের এক কোটি টাকা দাবি করা হয়। পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা মনে করিয়ে দিলে অভিযোগ, উত্তরে বলা হয়, “ওটা ভুলে যান। পুরো টাকা না পেলে বাড়ির আশা ছেড়ে দিন।”
উল্লেখ্য, এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর কৃষ্ণা চক্রবর্তীর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। মোবাইলে পাঠানো বার্তারও কোনও উত্তর মেলেনি। অন্যদিকে, অভিযুক্ত শ্রীজানি ভট্টাচার্য মুখোপাধ্যায় ফোনে জানান, “আজ কথা বলতে পারব না। যা বলার কাল বলব।”


