Aaj India Desk, কলকাতা: শালবনির সরকারি জমি সংক্রান্ত প্রতারণা মামলার তদন্তে আরও সক্রিয় হল সিআইডি (CID)। মঙ্গলবার বিকেলে নিউ আলিপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhishek Banerjee)- এর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বাড়িতে পৌঁছয় সিআইডির একটি বিশেষ দল। তাদের সঙ্গে ছিল বেহালা থানার পুলিশও। তদন্তকারী সূত্রের খবর, শালবনি মামলায় আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতেই এই অভিযান চালানো হয়।
শালবনি মামলায় তদন্তে নতুন গতি
অভিযোগ, শালবনিতে সরকারি জমির ভুয়ো নথি তৈরি করে তা বিক্রির মাধ্যমে প্রতারণা করা হয়েছে। এই মামলার তদন্ত প্রথমে জেলা পুলিশের হাতে থাকলেও সম্প্রতি তা সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ডেবরার চাকরি-প্রতারণা মামলার তদন্তভারও সিআইডিকে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই দুই মামলার তদন্তে নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে তদন্তকারী সংস্থা।
ডেবরা মামলায় স্বস্তি, শালবনি মামলায় ধাক্কা
সোমবার কলকাতা হাইকোর্ট ডেবরার চাকরি-প্রতারণা মামলায় সুমিত রায়কে আগাম জামিন দেয়। আদালত নির্দেশ দেয়, আগামী ১০ দিনের মধ্যে তদন্তকারী অফিসারদের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে তাঁকে। তবে শালবনির জমি-প্রতারণা মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। এরপরই ওই মামলায় তদন্তের গতি আরও বাড়িয়েছে সিআইডি।
আদালতে কী যুক্তি উঠে এল?
ডেবরা মামলায় সুমিত রায়ের আইনজীবীর দাবি, ২০২৩ সালে দায়ের হওয়া মামলায় প্রায় তিন বছর পর তাঁর মক্কেলের নাম যুক্ত করা হয়েছে। সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠলেও, সেই ঘটনায় সুমিত রায়ের প্রত্যক্ষ ভূমিকার কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তদন্তকারীরা এখনও আদালতে তুলে ধরতে পারেননি বলেও দাবি করা হয়।
অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তদন্ত এখনও চলছে এবং আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা প্রয়োজন। শুনানির সময় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের ভূমিকা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, সে বিষয়েও জানতে চান। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত ডেবরার মামলায় আগাম জামিন মঞ্জুর করলেও, শালবনির জমি-প্রতারণা মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে সেই মামলায় আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। ফলে বর্তমানে ওই মামলায় সুমিত রায়কে ঘিরে সিআইডির তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে।


