Aaj India Desk, কলকাতা : বছরের পর বছর ধরে ছায়ার মতো ছড়িয়ে থাকা এক ভয়ঙ্কর মাদক সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল এই পশ্চিমবঙ্গেই। এর প্রতিটি সুতো ছড়িয়ে পড়েছিল রাজ্যের একাধিক জেলায়। অবশেষে সেই অন্ধকার জগতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কুখ্যাত ‘হেরোইন সম্রাট’ সোফিক লস্কর ওরফে পিন্টুকে (Pintu Laskar) সোমবার গভীর রাতে হাতেনাতে পাকড়াও করলো পুলিশ। দীর্ঘদিনের গোপন নজরদারি ও টানটান অভিযানের পর তার এই গ্রেপ্তাতারির পর নতুন করে সামনে এসেছে এক বিস্তৃত মাদক নেটওয়ার্কের চিত্র।
তদন্তে উঠে এসেছে, বাম আমলের শেষ দিকে পিন্টুর (Pintu Laskar) মাদক ব্যবসার উত্থান শুরু হয়। প্রথমদিকে মুর্শিদাবাদ থেকে হেরোইন তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল এনে ঘুটিয়ারি শরিফ এলাকায় তা বিক্রি করত সে। ধীরে ধীরে এই ব্যবসার পরিধি বাড়তে থাকে এবং কয়েক দশক ধরে কোটি কোটি টাকার অবৈধ কারবার গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ। পুলিশের দাবি, শুধু দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেই নয়, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলিসহ একাধিক জেলায় পিন্টুর এজেন্ট সক্রিয় ছিল। নির্দিষ্ট সময়ে এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় হেরোইন পৌঁছে দেওয়া হত। তদন্তকারীদের মতে, একটি সুসংগঠিত চক্রের মাধ্যমে এই মাদক ব্যবসা পরিচালিত হতো।
শুধুমাত্র নিজে ব্যবসা চালিয়েই থেমে থাকেনি পিন্টু (Pintu Laskar)। ধীরে ধীরে ঘুটিয়ারি শরিফ এবং সংলগ্ন এলাকার বহু যুবককে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। প্রথমে সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের দলে টানা হতো। পরে সেই যুবকদেরই বিভিন্ন দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়। কেউ হেরোইনের কাঁচামাল আনা-নেওয়ার কাজে যুক্ত থাকত, কেউ আবার তৈরি মাদক নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিত। বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ রক্ষা, নতুন ক্রেতা ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি এবং টাকার লেনদেনের কাজেও ব্যবহার করা হতো এই যুবকদের। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে।
দীর্ঘদিন প্রকাশ্যেই এই ব্যবসা চালিয়ে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়ে ওঠে পিন্টু। বাড়ি, গাড়ি-সহ কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি গড়ে তোলে সে। পুলিশের নজরদারি বাড়তেই এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দেয়। তবে তদন্তকারীদের দাবি, আত্মগোপনে থাকলেও তার মাদক চক্র সক্রিয় ছিল। পরবর্তীকালে তার একাধিক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। পুলিশ এখন পিন্টুর আর্থিক লেনদেন, অস্ত্রের উৎস এবং রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মাদক নেটওয়ার্কের অন্যান্য সদস্যদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখে তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।


