Aaj India Desk, কলকাতা : অনাস্থা ভোটের (No Confidence Motion) আগে রাজনৈতিক অঙ্ক বদলে যাওয়ার সম্ভাবনার মধ্যেই সামনে এল এক গোপন বৈঠকের খবর। জেলা সীমানা পেরিয়ে, ঝাড়খণ্ডের একটি অতিথিশালায় গভীর রাতে মুখোমুখি বসেন ক্ষুব্ধ তৃণমূল সদস্যদের একাংশ এবং জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। আর সেই বৈঠক ঘিরেই এখন তোলপাড় পুরুলিয়ার রাজনৈতিক মহল।
অনাস্থা বৈঠকের আগে নতুন সমীকরণ?
আগামী ৫ ও ৬ আগস্ট পুরুলিয়া জেলা পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাব (No Confidence Motion) নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। তার আগে রবিবারের এই বৈঠক জেলা রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। ১৮ জুলাই জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো এবং সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন ২৪ জন তৃণমূল সদস্য। তাঁদের মধ্যে ২২ জনই রবিবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
ঝাড়খণ্ডের অতিথিশালায় গোপন বৈঠক
প্রথমে রবিবার সন্ধ্যায় পুরুলিয়া সার্কিট হাউসে জড়ো হন ক্ষুব্ধ তৃণমূল সদস্যরা। সেখানে বিজেপির জেলা সভাপতি শঙ্কর মাহাতোও পৌঁছন। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসার আশঙ্কায় বৈঠকের স্থান পরিবর্তন করে ঝাড়খণ্ডের সীমান্তবর্তী একটি অতিথিশালায় রাতের বৈঠক করা হয়। বৈঠকে বিজেপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, জেলা সভাপতি শঙ্কর মাহাতো এবং রাজ্য কমিটির সদস্য বিবেক রাঙ্গা।
কী নিয়ে আলোচনা?
বৈঠকে বিজেপি নেতৃত্ব সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে অপসারণের পক্ষে মত দেয়। সরকারি নথি বিকৃতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার প্রসঙ্গও আলোচনায় উঠে আসে বলে জানা গিয়েছে। তবে সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতোকে পদে বহাল রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, ক্ষুব্ধ তৃণমূল সদস্যরা সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতি দু’জনকেই সরানোর দাবিতে অনড় ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। নিবেদিতা মাহাতোও কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
তবে বৈঠক নিয়ে পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এবং বিজেপির জেলা সভাপতি শঙ্কর মাহাতো প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য বিবেক রাঙ্গা জানান, “অনাস্থা (No Confidence Motion) প্রস্তাব তৃণমূল সদস্যরাই এনেছেন। এটি তাদের নিজেদের বিষয়।” তিনি আরও বলেন, “তাঁরা আমাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চেয়েছিলেন। কাকে সরাবেন, কাকে আনবেন, সেই সিদ্ধান্ত তাঁদেরই নিতে বলা হয়েছে। আমরা শুধু বলেছি, জেলা পরিষদে কোনও দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না।”


