নয়াদিল্লি: মমতার কাছে ফেরা কি প্রায় নিশ্চিত? এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দেওয়া ৩ সাংসদকে নিয়ে এমনটাই জল্পনা আরও জোড়াল হচ্ছে। মঙ্গলবার এনডিএ বৈঠকে এবার মোদীর সঙ্গে একি সারিতে দেখা গিয়েছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু এদিনের বৈঠকেও অনুপস্থিত তিন সাংসদ, আবু তাহের, ইউসুফ পাঠান, খলিলুর রহমান। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই উপস্থিতি নিছক প্রোটোকল, নাকি ভবিষ্যতের বড় রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত? এই নিয়েই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
এই আবহেই এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করতে দিল্লিতে পৌঁছেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফলে জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এনসিপিআইয়ের (NCPI) একাংশ কি ধীরে ধীরে বিজেপির আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে? যদি ভবিষ্যতে বিজেপি কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়ের মতো নেতাদের আরও বড় ভূমিকা দেয়, তাহলে আবু তাহের, ইউসুফ পাঠান ও খলিলুর রহমানের রাজনৈতিক অবস্থান কী হবে?
তবে এই সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এনডিএ-র বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার আগে তিনি দাবি করেন, “আমাদের শিবিরে কোনও ভাঙন নেই। সবাই একজোট রয়েছেন।” প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই তাঁদের মমতাপন্থী তৃণমূলের সাংসদ সৌগত রায়ের সঙ্গে এক ফ্রেমে দেখা যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। যদিও এনসিপিআইয়ের (NCPI) মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছেন, দলের ২০ জন সাংসদই তাঁদের সঙ্গেই রয়েছেন, কেউ দল ছাড়ছেন না।
উল্টে তাঁর দাবি, আরও এক-দু’জন সাংসদ নাকি এনসিপিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে পাল্টা বিস্ফোরক দাবি করেছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়, এনসিপিআইয়ের (NCPI) অন্তত ৬ জন সাংসদ গোপনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। একই সুর শোনা গিয়েছে সাংসদ সৌগত রায়ের গলাতেও।
তাঁর দাবি, তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই, তারপর এনডিএ-র রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনেক সাংসদই অস্বস্তিতে রয়েছেন, বিশেষ করে মুসলিম সাংসদদের একাংশ। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এনসিপিআই (NCPI)-এর ভাঙনের কাউন্টডাউন কি তবে শুরু হয়ে গিয়েছে? এখন নজর আগামী কয়েকদিনের রাজনৈতিক পদক্ষেপের দিকে।


