Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: সোমবার আচমকাই ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বহু WhatsApp ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কোনও আগাম সতর্কতা না থাকায় সমস্যায় পড়েন অসংখ্য মানুষ। অনেকের ক্ষেত্রে প্রায় ২৪ ঘণ্টার জন্য অ্যাপটির পরিষেবা ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। অফিসের কাজ, টিমের যোগাযোগ কিংবা জরুরি তথ্য আদান-প্রদানের জন্য যাঁরা হোয়াটসঅ্যাপের উপর নির্ভরশীল, তাঁদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভও প্রকাশ করেন বহু ব্যবহারকারী।
ভারতীয় সময় রাত প্রায় ৮টা থেকে এই সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। অ্যাপ খুলতেই অনেকের স্ক্রিনে একটি বার্তা ভেসে ওঠে। সেখানে জানানো হয়, ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট প্ল্যাটফর্মের নিয়ম মেনে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবহৃত ডিভাইস সম্পর্কিত কিছু তথ্যও পরীক্ষা করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়। মেটা জানায়, এই পর্যালোচনার ফল সাধারণত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জানা যায়। একইসঙ্গে নিরাপদে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার, ফোন হারিয়ে গেলে কী করতে হবে এবং হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট কীভাবে ফেরত পাওয়া যাবে, সে সম্পর্কেও প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়।
সংস্থার দাবি, ভুয়ো বা নিয়মভঙ্গকারী অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করে প্ল্যাটফর্মকে নিরাপদ রাখতেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে অনেক সময় নিয়ম মেনে চলা ব্যবহারকারীরাও ভুলবশত এই বিধিনিষেধের মুখে পড়তে পারেন। এমন ঘটনা ঘটলে দ্রুত সমস্যা ঠিক করে পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয় বলেও জানানো হয়েছে।
তবে এই ঘটনার জেরে অনেক ব্যবহারকারী চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কারও অভিযোগ, আপিল করার পরও কেন অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে, তার কোনও স্পষ্ট কারণ জানানো হয়নি। আবার কেউ দাবি করেছেন, শুধুমাত্র অফিসিয়াল WhatsApp অ্যাপ ব্যবহার করা সত্ত্বেও তাঁর অ্যাকাউন্টে হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। প্রতিদিনের কাজকর্মে সমস্যা হওয়ায় অনেকে এক্স (X)-এ নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
এদিকে, অন্য একটি ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) একটি ফেসবুক পোস্টে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করাকে কেন্দ্র করেও চাপে পড়েছে মেটা (Meta)। সোমবার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই ঘটনাকে গুরুতর বলে উল্লেখ করা হয়। কমিটির পক্ষ থেকে সংস্থার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার পাশাপাশি এই ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। কয়েকজন সাংসদ বিষয়টির তীব্র সমালোচনা করে প্রয়োজন হলে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবিও তোলেন।
ভারতের আইন ও নিয়মকানুন মেনে চলার ক্ষেত্রে Meta-র ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংসদীয় কমিটি। সদস্যদের বক্তব্য, ভারত থেকে বিপুল ব্যবসায়িক আয় করা সত্ত্বেও দেশের আইনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া সংস্থার দায়িত্ব। WhatsApp অ্যাকাউন্টে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এবং প্রধানমন্ত্রীর ফেসবুক পোস্টে বিধিনিষেধ—এই দুই ঘটনাকে ঘিরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


