Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: ইডি (ED)-র নির্দেশে তৃণমূলের (TMC) তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল (Kalighat Trinomul)। তবে সোমবার শীর্ষ আদালত থেকে আপাতত কোনও স্বস্তি মেলেনি। বিচারপতি এম এম সুন্দরেশের বেঞ্চ জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার ইডি এবং কালীঘাট তৃণমূল— দুই পক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য শোনার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইডি যে তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে, সেখানে মোট প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা রয়েছে। এই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে দৈনন্দিন সাংগঠনিক খরচ চালানোর জন্য অর্থ তোলার অনুমতি চেয়ে প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। পাশাপাশি ইডির নির্দেশে স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে যায় তারা।
এদিকে, পুলিশের নির্দেশে তৃণমূলের আরও একটি আলাদা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে পৃথক মামলা চলছিল। সেই মামলায় সম্প্রতি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ শর্তসাপেক্ষে ওই অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। আদালতের নির্দেশে একজন স্পেশ্যাল অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁর তত্ত্বাবধানে অ্যাকাউন্টটি পরিচালিত হবে। অনুমোদিত দুই স্বাক্ষরকারীর সইয়ের পাশাপাশি স্পেশ্যাল অফিসারের সই থাকলেই সেই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা যাবে। প্রয়োজন হলে আইনি লড়াইয়ের খরচও সেখান থেকে করা যাবে। তবে ইডির ফ্রিজ করা ৪৪০ কোটি টাকার তিনটি মূল অ্যাকাউন্ট এখনও সম্পূর্ণভাবে অচলই রয়েছে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল এবং মেনকা গুরুস্বামী। তাঁদের দাবি, দলের প্রধান অ্যাকাউন্টগুলি বন্ধ থাকায় সাংগঠনিক কাজকর্ম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি প্রায় ২১৫ জন কর্মী ও আধিকারিকের বেতনও আটকে রয়েছে বলে আদালতে জানান তাঁরা। অন্যদিকে, কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু এই দাবি মানতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের অন্য অ্যাকাউন্টে অন্তত ১৬৪ কোটি টাকা রয়েছে। তাই অর্থের অভাবের অভিযোগ সঠিক নয়।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট জানায়, আপাতত মূল মামলার বিষয়ে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হবে না। তবে দলের দৈনন্দিন খরচ চালানোর জন্য কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত স্পেশ্যাল অফিসারের তত্ত্বাবধানে সীমিত পরিমাণ অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে ইডি ও তৃণমূল— উভয় পক্ষের মতামত জানতে চেয়েছে বিচারপতি এম এম সুন্দরেশের বেঞ্চ। আগামী মঙ্গলবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।


