Aaj India Desk, কলকাতা: রক্তের কালোবাজারি ও অনিয়মে লাগাম টানতে কড়া পদক্ষেপ করল স্বাস্থ্য ভবন (Swasthya Bhawan)। নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, রাজ্য বা কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আর ইচ্ছেমতো রক্ত বা প্লাজমা বিক্রি কিংবা অন্যত্র পাঠানো যাবে না। সরকারি ও বেসরকারি—সব ধরনের ব্লাড ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য (Blood Bank Guidelines)। স্বাস্থ্য দফতর স্পষ্ট জানিয়েছে, নিয়ম না মেনে রক্ত স্থানান্তর করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৫ দিন আগেই জানাতে হবে
কোনও ব্লাড ব্যাঙ্ক যদি অন্য রাজ্যে বা অন্য কোনও লাইসেন্সপ্রাপ্ত সংস্থায় রক্ত বা রক্তের উপাদান পাঠাতে চায়, তাহলে অন্তত ১৫ দিন আগে স্টেট ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিলের কাছে অনুমতির আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে কয়েকটি তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক। যেমন—
- যে ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত পাঠানো হবে, তার নাম।
- কোন ব্লাড গ্রুপের কত ইউনিট রক্ত পাঠানো হচ্ছে।
- রক্তদাতার লিখিত সম্মতিপত্র, যেখানে উল্লেখ থাকবে যে প্রয়োজনে তাঁর রক্ত অন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্লাড ব্যাঙ্কেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
রক্তের নিরাপত্তায় বাড়তি কড়াকড়ি
রক্ত পরিবহণের সময় সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখার দায়িত্ব থাকবে যে ব্লাড ব্যাঙ্ক রক্ত পাঠাচ্ছে, তাদের উপর। আর রক্ত পৌঁছানোর পর নির্ধারিত তাপমাত্রায় তা সংরক্ষণের দায়িত্ব থাকবে গ্রহণকারী সংস্থার। এছাড়াও প্রতিটি রক্তের ইউনিটের সঙ্গে ট্রান্সফিউশন ট্রান্সমিটেড ইনফেকশন (TTI) পরীক্ষায় নেগেটিভ রিপোর্ট এবং সঠিক তাপমাত্রায় পরিবহণের প্রমাণপত্র জমা দেওয়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ভুল হলে কার দায়?
নতুন নির্দেশিকায় দায়বদ্ধতার বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে। রক্তের গুণগত মান বা অন্য কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটির দায় বহন করবে রক্ত সরবরাহকারী ব্লাড ব্যাঙ্ক। তবে ব্যাচ নম্বর বা ক্রস-ম্যাচিং সংক্রান্ত বিষয় এর বাইরে থাকবে।অন্যদিকে, ক্রস-ম্যাচিং নিয়ে কোনও সমস্যা হলে তার সম্পূর্ণ দায় থাকবে রক্ত গ্রহণকারী ব্লাড ব্যাঙ্কের উপর।
রক্ত মজুত করে রাখা যাবে না
অনেক ব্লাড ব্যাঙ্ক শুধুমাত্র নিজেদের হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য রক্তের মজুত আলাদা করে রাখে। এই প্রবণতার বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন। নতুন নির্দেশে জানানো হয়েছে, কোনও ব্লাড ব্যাঙ্ক শুধু নিজেদের রোগীদের জন্য রক্ত আটকে রাখতে পারবে না। প্রয়োজন অনুযায়ী সব রোগীকেই রক্ত সরবরাহ করতে হবে। এছাড়াও, এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে রক্ত পাঠানোর ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য দফতরের নির্ধারিত বিশেষ ফর্ম পূরণ করাও এখন থেকে বাধ্যতামূলক।


