Aaj lndia Desk, কলকাতা: রাজ্যের একাধিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইস্যুতে একসঙ্গে সরব হলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তৃণমূল কংগ্রেসের সম্ভাব্য ‘প্ল্যান বি’, মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুরে বিপুল টাকা উদ্ধার, বিজেপির দলীয় শৃঙ্খলা, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশ যাত্রা, কবি জয় গোস্বামীর মন্তব্য থেকে শুরু করে প্রশ্নফাঁস বিতর্ক— প্রায় প্রতিটি বিষয়েই কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন তিনি।
‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করছেন মমতা’
তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে জল্পনার প্রসঙ্গ টেনে দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “পদ্মফুল রেডি রাখেননি তো? জোড়াফুল বা গোটা ফুল দিয়ে কী হবে?” তাঁর দাবি, দলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করছেন বলেই একের পর এক এমন মন্তব্য করছেন।
মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুরে টাকা উদ্ধার নিয়ে দাবি
মালদায় কোটি কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনায় দিলীপের অভিযোগ, বহু ব্যবসায়ীর কাছে শাসকদলের নেতাদের টাকা গচ্ছিত রয়েছে। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বিপুল অর্থ পঞ্চায়েত-সহ বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতির মাধ্যমে লুঠ হয়েছে এবং তদন্ত এগোলে আরও বড় তথ্য সামনে আসতে পারে। দক্ষিণ দিনাজপুরে বিপুল টাকা উদ্ধারের ঘটনাতেও তিনি বলেন, “এবার রোজই এভাবে টাকা বেরোবে।”
বিজেপিতে ‘বেনো জল’ ঢুকতে দেবে না দল
দলে দুর্নীতিগ্রস্তদের প্রবেশ নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিলীপ বলেন, কোটি কোটি টাকা নিয়ে অনেকেই বিজেপিতে ঢোকার চেষ্টা করছেন। তবে দল সতর্ক রয়েছে। তাঁর কথায়, “কে, কার সঙ্গে কেন ঘুরছে, আমরা সব জানি।” তিনি জানান, বিজেপির নিজস্ব শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি সক্রিয় রয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ২৫০ জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও অসাধুদের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা চলবে।
অভিষেকের বিদেশ যাত্রা ও জয় গোস্বামীকে খোঁচা
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশ যাত্রা নিয়ে কটাক্ষ করে দিলীপ বলেন, রাহুল গান্ধীর মতো মাঝেমধ্যেই বিদেশে যাওয়ার ‘কালচার’ তিনি গ্রহণ করছেন। অন্যদিকে কবি জয় গোস্বামীর ‘থ্রেট কালচার’ মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আরজি কর কাণ্ডের সময় কেন তিনি মুখ খোলেননি? পাশাপাশি তসলিমা নাসরিনের মাদ্রাসা সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রসঙ্গে দিলীপের দাবি, তিনি এখন বাংলার বাস্তব পরিস্থিতি উপলব্ধি করেছেন।
প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিরোধীদের নিশানা
ঝাড়খণ্ড, পাঞ্জাব ও কর্নাটকে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তুলে দিলীপ বলেন, ওই রাজ্যগুলির ঘটনায় বিরোধীরা নীরব থেকেছে। অথচ শুধুমাত্র NEET-কে কেন্দ্র করেই রাজনীতি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে যারা আন্দোলন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ হওয়া উচিত।


