কলকাতা: অবৈধ পাথর খাদান মামলায় পলাতক টুলু মণ্ডল (Tulu Mondal) ওরফে নাজিবুদ্দিন মণ্ডলকে ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। এবার প্রশ্ন উঠেছে, তাঁর পাথরের ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় ট্রেড লাইসেন্স আদৌ ছিল কি না। একই সঙ্গে তদন্তকারীদের নজরে এসেছে পাথর ব্যবসায় ব্যবহৃত জমির একাংশ সরকারি খাস জমি হওয়ার অভিযোগও।
পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, টুলুর (Tulu Mondal) ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সমিতির এক সূত্রের দাবি, “লাইসেন্স ছিল কি না, তা জানার পরিস্থিতিই ছিল না। টুলু নিজেই সব কন্ট্রোল করতেন।” ফলে লাইসেন্স ছিল নাকি ব্যবসা চলছিল অন্যভাবে, তা এখন তদন্তের বিষয়। এদিকে, পাথর খাদান ও পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহৃত জমির মধ্যে সরকারি খাস জমি রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঠিক কতটা জমি সরকারি, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রশাসনের তরফে মাপজোক শুরু হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তদন্তের মাঝেই আরও একটি তথ্য সামনে এসেছে। টুলু মণ্ডলের (Tulu Mondal) মেয়ের নামে থাকা একটি পেট্রোল পাম্প পুলিশ সিজ করেছে। পাশাপাশি টুলুর সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। হিসাবপত্র খতিয়ে দেখতে দুই হিসাবরক্ষক, পুলক দে এবং রেখিউল ইসলামকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
সবচেয়ে বেশি চর্চা তৈরি করেছে টুলুর অবস্থান নিয়ে নতুন দাবি। পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজারের বক্তব্য, টুলুর (Tulu Mondal) মেয়ে শালমা বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা এবং তিনি স্বামীর সঙ্গে দুবাইয়ে রয়েছেন। নাজিবুদ্দিনও তাঁদের কাছেই গিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে এই দাবির স্বাধীন সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনও হয়নি।
একদিকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ধোঁয়াশা, অন্যদিকে খাস জমির অভিযোগ, বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি, সিল হওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং দুবাই যোগ, সব মিলিয়ে টুলু মণ্ডল (Tulu Mondal)-কাণ্ডে রহস্য যেন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এখন তদন্তকারীদের নজর, এই অভিযোগগুলির পক্ষে কী কী প্রমাণ উঠে আসে এবং পলাতক টুলুকে কবে আইনের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়।


