স্নেহা পাল, ওয়াশিংটন : যুক্তরাষ্ট্রে বহু বছর ধরে বিভিন্ন ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে যুক্ত ভারতীয় উদ্যোক্তারা। কিন্তু ২০২৬ সালের শুরুতেই তৈরি হয়েছে বড় ধাক্কার আশঙ্কা। মার্কিন সরকারের নতুন নীতিতে ছোট ব্যবসার ক্ষেত্রে ঋণ পাওয়া কঠিন হতে চলেছে গ্রিন কার্ডধারী ভারতীয়দের জন্য।
আমেরিকা ফার্স্ট’-এর ছায়ায় ঋণনীতিতে পরিবর্তন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আওতায় US Small Business Administration (SBA) তাদের অপারেটিং প্রোসিডিওর (SOP) সংশোধন করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র ১০০ শতাংশ মার্কিন নাগরিকদের মালিকানাধীন সংস্থাই SBA-র সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবে। SBA-র নথি অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মার্কিন নাগরিকদের আর্থিক স্বার্থ ও নিরাপত্তা সুরক্ষার লক্ষ্যে। প্রশাসনের বক্তব্য, সরকারি সুবিধা মূলত মার্কিন নাগরিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখাই এই নীতির উদ্দেশ্য।
কবে থেকে কার্যকর নতুন নিয়ম
এই নীতি ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। SBA জানিয়েছে, ১ মার্চ, ২০২৬-এর মধ্যে নিয়মটি পুরোপুরি কার্যকর হবে।
গ্রিন কার্ডধারীদের বাধা
আগে লিগ্যাল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা গ্রিন কার্ডধারীরা SBA ঋণের জন্য আবেদন করতে পারতেন। নতুন নিয়মে সেই সুযোগ বাতিল করা হচ্ছে। ফলে গ্রিন কার্ডধারীর মালিকানাধীন কোনও সংস্থাই আর এই ঋণের যোগ্য হবে না।
ভারতীয় ব্যবসায় প্রভাব
এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে ভারতীয় উদ্যোক্তাদের উপর। বিভিন্ন সমীক্ষা অনুযায়ী, আমেরিকার প্রায় ৬০ শতাংশ হোটেল ব্যবসা ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মালিকানায়। এছাড়াও অসংখ্য ছোট ও মাঝারি ব্যবসা পরিচালনা করেন তাঁরা। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে অনেক ভারতীয় উদ্যোক্তাকে বিকল্প অর্থায়নের পথ খুঁজতে হবে অথবা ব্যবসার মালিকানা কোনও মার্কিন নাগরিকের নামে স্থানান্তর করতে হবে।
যদিও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একাংশ ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, অভিবাসী উদ্যোক্তাদের ওপর এই চাপ দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।


