Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: দিল্লিতে প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডের প্রতিবাদে (NEET Paper Leak) ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি লাঠিচার্জ ও রক্তপাতের জন্য সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)-কে দায়ী করল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে (Abhijit Dipke) দাবি করেছেন, এই ঘটনার নৈতিক ও প্রশাসনিক দায় স্বীকার করে অমিত শাহের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।
অভিজিৎ দিপকের অভিযোগ, গত ২০ জুলাই দিল্লিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং ছররা গুলি চালানোর মতো পদক্ষেপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অনুমতি ছাড়া সম্ভব নয়। তাঁর দাবি, ওই দিনের গোটা পুলিশি অভিযান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশেই হয়েছে।
এর আগের দিন লোকসভায় প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও দিল্লির ঘটনার জন্য অমিত শাহকে দায়ী করে তাঁর ইস্তফা দাবি করেছিলেন। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মহারাষ্ট্রের সম্ভাজিনগরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিজিৎ দিপকেও একই দাবি তোলেন। তাঁর কথায়, আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর যে ধরনের বলপ্রয়োগ হয়েছে এবং যেভাবে তরুণদের রক্ত ঝরেছে, তার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এড়াতে পারেন না। পাশাপাশি, ২০ জুলাইয়ের অশান্তির পেছনে বিজেপি কর্মীদের উসকানি ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
যন্তর মন্তরের আন্দোলনে বিদেশি অর্থসাহায্য রয়েছে বলে বিজেপির অভিযোগও খারিজ করে দিয়েছেন সিজেপি প্রধান। তাঁর বক্তব্য, যদি সত্যিই বিদেশি অর্থের ব্যবহার হয়ে থাকে, তাহলে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তা আটকাতে না পারা অমিত শাহেরই ব্যর্থতা। সেই কারণেও তাঁর পদত্যাগ করা উচিত বলে দাবি করেন দিপকে।
দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। দিপকের দাবি, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার যুক্তি তৈরি করতেই আগে থেকে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, ঘটনাস্থলে আগে থেকেই একটি ট্রাকে করে পাথর এবং একটি ভাঙা গাড়ি এনে রাখা হয়েছিল। পরে বিজেপি সমর্থকেরা পাথর ছুড়লেও, সেই দায় ছাত্রদের ওপর চাপানো হয় বলে দাবি তাঁর।
প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনের জেরে গত ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর নিজের মহারাষ্ট্রের বাড়িতে ফিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অভিজিৎ দিপকে। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী দেশ পরিচালনার চেয়ে সামাজিক মাধ্যমে নিজের ভাবমূর্তি গড়ে তুলতেই বেশি আগ্রহী। কটাক্ষ করে তিনি বলেন, মোদীর উচিত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে পূর্ণ সময়ের ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ হিসেবে কাজ করা এবং দেশের দায়িত্ব অন্য কোনও নেতার হাতে তুলে দেওয়া।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর সিজেপি তাদের আন্দোলন স্থগিত করলেও, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে এখনও বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দিপকে। তিনি বলেন, অবিলম্বে এই হয়রানি বন্ধ করতে হবে। তা না হলে আগামী নির্বাচনে দেশের তরুণরাই ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেবে। প্রয়োজনে ধর্মেন্দ্র প্রধানের মতো পুরো সরকারকেই বদলে দেওয়ার লক্ষ্যে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।


