নয়াদিল্লি: ক্ষমতার পালাবদল হতেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়ে ‘দিদির’ হাত ছাড়েন ২০ জন সাংসদ। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সেই বিদ্রোহী শিবির ত্রিপুরার একটি আঞ্চলিক দল এনসিপিআই-তে (NCPI) নাম লেখান। এনডিএ সমর্থিত সেই দলের অন্দরেই অসন্তোষের পারদ চড়ছে বলে, জল্পনা তুঙ্গে। একদিকে NDA-র সঙ্গে প্রকাশ্য ঘনিষ্ঠতা, অন্যদিকে দলের স্বীকৃতি নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা, সব মিলিয়ে বিদ্রোহী শিবিরের একাংশের সাংসদদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়ছে বলেই দাবি সূত্রের।
২০ সাংসদের মধ্যে অনেকেই বিজেপির দিকে পা বাড়িয়ে রেখেছে বলে সূত্রের খবর। এই আবহে সামনে উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য! সূত্রের খবর, NCPI-র বেশ কয়েকজন সাংসদ বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট নন। তাঁদের মধ্যে কেউ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন, আবার কেউ চাইছেন পুরনো দল তৃণমূল কংগ্রেসেই ফিরে যেতে। যদিও এই দাবির স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ মেলেনি।
সূত্রের আরও দাবি, দল গঠনের সময় সাংসদদের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির বিস্তর ফারাক রয়েছে। ফলে অনেকেই নিজেদের সংসদীয় এলাকাতেও রাজনৈতিক চাপে পড়ছেন। তবে ঠিক কোন কোন সাংসদ অসন্তুষ্ট, সে বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি ওই সূত্র।
এই জল্পনার আবহেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়কে ঘিরে। বুধবার সংসদ চত্বরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহার সঙ্গে তাঁকে দেখা যাওয়ার একটি ছবি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়। যদিও সৌগত রায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি নাড্ডার সঙ্গে কোনও লাঞ্চ করেননি এবং বিষয়টি নিয়ে অতিরঞ্জিত ব্যাখ্যা না দেওয়ারও আবেদন জানান।
এই সাংসদদের কি ফের তৃণমূলে ‘ঘর ওয়াপসি’?
NCPI-র ভবিষ্যৎ ঘিরে জল্পনা আরও উসকে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সৌগত রায়। তাঁর দাবি, বিদ্রোহ করে NCPI-তে যাওয়া ২০ জন সাংসদের মধ্যে কয়েকজন ফের তৃণমূলে ফিরতে পারেন। সৌগতের কথায়, দলের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ এখনও রয়েছে। তাঁর দাবি, তৃণমূল ছেড়ে NCPI-তে যাওয়া এবং পরে NDA-র অংশ হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে দলের একাংশের সাংসদ খুশি নন। বিশেষ করে কয়েকজন মুসলিম সাংসদের পাশাপাশি আরও কিছু সাংসদ বর্তমান অবস্থান নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছেন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। যদিও কতজন ফিরতে পারেন, সেই সংখ্যা প্রকাশ করেননি সৌগত। তাঁর দাবি, বিষয়টি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি NCPI-তে ভাঙন শুধু সময়ের অপেক্ষা? বুধবার NDA-র সংসদীয় দলের বৈঠকে কাকলি ঘোষদস্তিদার, সায়নী ঘোষ, শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জুন মালিয়াকে দেখা গেলেও খলিলুর রহমান, ইউসুফ পাঠান এবং আবু তাহের খানের অনুপস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। যদিও তাঁদের অনুপস্থিতির কারণ নিয়ে কোনও সরকারি ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। ফলে তাঁরা কি তৃণমূলে ফেরার কথা ভাবছেন, নাকি অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তা নিয়েই এখন তুঙ্গে রাজনৈতিক কৌতূহল।


