নয়াদিল্লি: বিরোধীদের হট্টগোল, ওয়াকআউট আর NEET ইস্যুতে তুমুল উত্তেজনার মাঝেই সংসদে পাশ হয়ে গেল এক গুরুত্বপূর্ণ বিল। বৃহস্পতিবার লোকসভায় ধ্বনি ভোটে অনুমোদন পেল জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধন) বিল, ২০২৬। এর আগে বুধবার রাজ্যসভাতেও বিলটি পাশ হয়েছিল। রাষ্ট্রপতির সইয়ের পরই এটি আইনে পরিণত হবে।
নতুন সংশোধনের ফলে, এতদিন শুধুমাত্র জাতীয় পতাকা, সংবিধান ও জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর অবমাননার বিরুদ্ধে যে শাস্তির বিধান ছিল, এবার সেই একই আইনি সুরক্ষা মিলবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এরও (Vande Mataram)। অর্থাৎ, ‘বন্দে মাতরম’ অপমান করা, গাওয়া বাধা দেওয়া বা গানের সময় ইচ্ছাকৃত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে অভিযুক্তকে।
লোকসভায় বিলটি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হলেও, NEET প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যেই ধ্বনি ভোটে তা পাশ হয়ে যায়। কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দল এই ইস্যুতে সরব থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিলটি অনায়াসেই নিম্নকক্ষে অনুমোদন পায়।
কেন্দ্রের দাবি, স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রেরণা ‘বন্দে মাতরম’-কে (Vande Mataram) যথাযথ সাংবিধানিক মর্যাদা দিতেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে। ১৮৭৫ সালে বঙ্কিমচন্দ্র গানটি রচনা করেন এবং পরে ১৮৮২ সালে প্রকাশিত তাঁর উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’-এ তা স্থান পায়। গানটির ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) পরিবেশনের উপর বিশেষ জোর দিয়েছে কেন্দ্র।
রাজ্যসভায় বিলটি নিয়ে আলোচনা চলাকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রায় বলেন, ‘বন্দে মাতরম’ শুধু একটি গান নয়, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম, আত্মমর্যাদা এবং জাতীয় চেতনার প্রতীক। তাই এর সম্মান রক্ষায় আইনি সুরক্ষা প্রয়োজন ছিল।
লোকসভার অনুমোদনের পর বিলটি এখন রাষ্ট্রপতির সম্মতির অপেক্ষায়। সেই সই মিললেই ‘বন্দে মাতরম’-এর অবমাননাও জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননার মতোই শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।


