নয়াদিল্লি: তাঁর ‘হ্যালো ফ্রেন্ডস’ বলে শুরু করা ৩ টি ভিডিওতেই কয়েক ঘন্টার মধ্যে মিলিয়নের উপর ভিউস। ককরোচ সহ দেশের যুব সমাজের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) সাম্প্রতিক ভিডিও বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমত ‘হট টপিক’! এবার তাঁকে ফের কটাক্ষ করে বিতর্ক উসকে দিলেন ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে (Abhijit Dipke)। তাঁর কটাক্ষ, দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং একজন ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ হিসেবেই নরেন্দ্র মোদী বেশি সফল। NEET প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের আবহে প্রধানমন্ত্রীর সোশ্যাল মিডিয়া বার্তাকে খোঁচা দিতেই এই মন্তব্য করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর নিজের মহারাষ্ট্রের বাড়িতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দিপকে (Abhijit Dipke) বলেন, “আমার মনে হয় প্রধানমন্ত্রী মোদীর (Narendra Modi) এখন ইনফ্লুয়েন্সার হয়ে যাওয়া উচিত। ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে তিনি (Narendra Modi) ভালো কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার ছেড়ে অন্য কাউকে দেশের দায়িত্ব নিতে দেওয়া উচিত।” এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
তবে শুধু প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেই থেমে থাকেননি CJP-র প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর (Abhijit Dipke) অভিযোগ, আন্দোলন প্রত্যাহারের পরও বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের চিহ্নিত করে হয়রানি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, “সরকার অবিলম্বে এই হয়রানি বন্ধ করুক। তা না হলে আগামী নির্বাচনে আন্দোলনকারীরাই জবাব দেবে।”
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে স্বাগত জানালেও আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ যে এতেই মিটে যায়নি, তাও স্পষ্ট করেছেন দিপকে। তাঁর কথায়, “একজন মন্ত্রীর পদত্যাগে মানুষের ক্ষোভ শেষ হয়নি। ক্ষোভ ছিল গোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে।” একইসঙ্গে তিনি (Abhijit Dipke) দাবি করেন, যুব সমাজের অসন্তোষের গভীরতা বিজেপি এখনও উপলব্ধি করতে পারেনি। আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন CJP প্রধান। তাঁর দাবি, লড়াই আপাতত থামলেও শেষ হয়নি। প্রয়োজনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবে সংগঠন। এমনকি তিনি (Abhijit Dipke) মন্তব্য করেন, “যেভাবে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে, প্রয়োজনে সরকারও বদলে দেওয়া হবে।”
দিল্লির যন্তর-মন্তরে আন্দোলনের সময় ছাত্রদের বিরুদ্ধে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ নিয়েও সরব হয়েছেন দিপকে। তাঁর দাবি, যিনি বা যাঁরা এই ধরনের পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এছাড়া প্রশ্নফাঁস মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি (Abhijit Dipke)। তাঁর অভিযোগ, দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেওয়া হলেও প্রথম শুনানিতেই তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবী অনুপস্থিত থাকায় মামলার অগ্রগতি হয়নি। দিপকের দাবি, শুধু ঘোষণা নয়, দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।


