Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: সংসদে শর্মিলা সরকার (Sharmila Sarkar)-কে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের টিকিটে জিতে আসা এই সাংসদ বর্তমানে বিক্ষুব্ধ শিবিরে নাম লেখালেও, মঙ্গলবার সংসদে তাঁর বক্তব্যের সময় নামের পাশে দেখা যায় ‘AITC’ পরিচয়। আর এই বিষয়টিকেই হাতিয়ার করে শর্মিলাকে কটাক্ষ করেছেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল (Kalighat Trinomul) সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)।
মঙ্গলবার সংসদে পেপার লিক রোধে আনা বিল নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেই সময় বক্তব্য রাখতে ওঠেন পূর্ব বর্ধমানের সাংসদ শর্মিলা সরকার। পেশায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ শর্মিলা প্রথমবার তৃণমূলের প্রার্থী হয়েই লোকসভা নির্বাচনে জয় পান। ২০২৪ সালের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরনো সাংসদ সুনীল মণ্ডলকে সরিয়ে নতুন মুখ শর্মিলার উপর ভরসা করেছিলেন। সেই আস্থার মর্যাদা দিয়ে জয়ও পান শর্মিলা।
কিন্তু ২০২৬ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। তৃণমূলের একাধিক সাংসদ দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে আলাদা পথে হাঁটেন। বারাসতের সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে কয়েকজন সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে বিক্ষুব্ধ শিবিরে যোগ দেন। সেই তালিকায় নাম ওঠে শর্মিলা সরকারেরও। বর্তমানে তাঁকে এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হতে পারে বলেও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে।
এর মাঝেই মঙ্গলবার সংসদে শর্মিলার নামের পাশে ‘AITC’ লেখা দেখতে পান মহুয়া মৈত্র। বিষয়টি নিয়ে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে শর্মিলাকে নিশানা করেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। তিনি লেখেন, “ও মা—সে কি? এত বেইমানি, গদ্দারির পরেও সেই AITC-টা নামের পাশে রইল? বিজেপির B টিম লিখে নিন প্লিজ…।”
উল্লেখ্য, তৃণমূল ছেড়ে NCPI-তে যোগ দেওয়া বিক্ষুব্ধ সাংসদদের নিয়ে আগেও একাধিকবার ‘গদ্দার’ বলে আক্রমণ করেছে কালীঘাটপন্থী শিবির। শর্মিলা সরকারকে ঘিরে মহুয়া মৈত্রের এই মন্তব্য সেই রাজনৈতিক সংঘাতকেই আরও সামনে নিয়ে এল।


