Aaj India Desk, কলকাতা : রাজ্যের পুলিশ বাহিনীর জনবল, পরিকাঠামো এবং আর্থিক সুবিধা বাড়াতে একাধিক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ভবানী ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, আগামী কয়েক বছরে ধাপে ধাপে ১ লক্ষ নতুন পুলিশ কর্মী নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ভবানী ভবনে খালি হাতে আসবেন, তা কি হয়? এখন কিছু দিচ্ছি, ভবিষ্যতেও দেব। আপনারা ভালোভাবে কাজ করুন।”
১ লক্ষ পুলিশ নিয়োগের ঘোষণা
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, আগামী কয়েক বছরে ধাপে ধাপে ১ লক্ষ নতুন পুলিশ কর্মী নিয়োগ করা হবে। দীর্ঘদিন আইনি জটিলতায় আটকে থাকা প্রায় ৪৭ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া, প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা ১৪ হাজার কনস্টেবলকে আসন্ন দুর্গাপুজোর আগেই কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করা হয়।
ডিএ ও সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে ঘোষণা
পুলিশ কর্মীদের আর্থিক সুবিধার বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, রাজ্যের সপ্তম বেতন কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ হাতে এলেই তা দ্রুত কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রথম ধাপে আগামী অক্টোবর থেকে পুলিশ কর্মীদের বেতনের সঙ্গে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ যোগ করা হবে। পাশাপাশি ২০১৭ সাল থেকে ১,৫০০-তে স্থির থাকা রেশন ভাতা বাড়িয়ে ২,০০০ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বৃদ্ধিও অক্টোবর থেকেই কার্যকর হবে।
NIA-এর আদলে গড়বে SIA
অপরাধের তদন্ত আরও দ্রুত ও দক্ষভাবে করার জন্য রাজ্যে স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (SIA) গঠনের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই সংস্থাটি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-এর ধাঁচে কাজ করবে।পুলিশের আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে প্রায় ৪,০০০টি পুরনো ও বীমাহীন পুলিশ গাড়ির বদলে নতুন গাড়ি আনা হবে। এছাড়া, রাজ্যের ৫৫২টি থানার মধ্যে ২৫০ থেকে ৩০০টি থানার পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বিশেষ আর্থিক সাহায্য চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এর পাশাপাশি মহিলা কনস্টেবলদের নিজ নিজ জেলায় এবং মহিলা অফিসারদের নিকটবর্তী জেলায় বদলির রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। যাঁরা ১৫ বছরের বেশি সময় নিজের জেলার বাইরে কর্মরত, তাঁদের পর্যায়ক্রমে নিজ জেলায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথাও জানান শুভেন্দু অধিকারী।
একসঙ্গে পুলিশ কর্মীদের কল্যাণে এই একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা করলেও এই ঘোষণাগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং তার প্রভাব রাজ্যের পুলিশি পরিষেবা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় কতটা পড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজ্যবাসীর।


