Aaj India Desk, কলকাতা : টলিউডের সংগঠনগত ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার অ্যান্ড কালচারাল কনফেডারেশন (EIMPCC)। ২১ জুলাই রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে পাঠানো একটি চিঠিতে ১৫ জন প্রতিনিধির নাম জমা দিয়েছে সংগঠনটি। চিঠিতে সংগঠনের প্রধান হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন সাধন তালুকদার। এরপরই প্রশ্ন উঠেছে, টলিউডের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে ভবিষ্যতে কি ফেডারেশনের পরিবর্তে কনফেডারেশনকে (Tollywood Confederation) গুরুত্ব দেওয়া হবে?
১৩ জুলাই নন্দন চত্বরে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব ড. সৌমিত্র মোহনের উপস্থিতিতে টলিউডের বিভিন্ন গিল্ড, প্রযোজক, পরিচালক ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের পরেই বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে দপ্তরে চিঠি পাঠায় কনফেডারেশন (Tollywood Confederation)। সেই তালিকায় আছেন পরিচালক অতনু বসু, সহকারী পরিচালক নীলকমল ধাড়া, ম্যানেজার ভাস্কর চৌধুরী, সহকারী ম্যানেজার বাপি সান্যাল, ক্যামেরা বিভাগের সোমনাথ ব্যানার্জি ও মানস ভট্টাচার্য, সাউন্ড বিভাগের মিহির জানা, আর্ট ডিরেক্টর উজ্জ্বল সরকার, ট্রলি সেটিংয়ের সুব্রত মণ্ডল, ভেন্ডর সৈকত দাস, আর্ট সেটিংয়ের স্বরূপ সিং, ইলেকট্রিশিয়ান দেবাশিস সোম, সম্পাদক অলোক ধাড়া, হেয়ার স্টাইলিস্ট সীমা ঘোষ এবং মেকআপ আর্টিস্ট সিমরান পাল। কনফেডারেশনের দাবি, টলিউডের বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই এই ১৫ জনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
তবে তাদের দাবি অনুযায়ী, কনফেডারেশন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, এটি কোনো ট্রেড ইউনিয়ন আইনের আওতাভুক্ত নয়। ফলে আইন অনুযায়ী ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষমতা বা দায়িত্ব তাদের নেই। এর আগে জুন মাসের শেষদিকে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতেও জানানো হয়েছিল, ট্রেড ইউনিয়ন আইনে গঠিত IMPA, বিভিন্ন গিল্ড বা ফেডারেশন ভেঙে দেওয়া যাবে না।
কনফেডারেশনের (Tollywood Confederation) প্রধান সাধন তালুকদারের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে ২০১৯ সাল থেকেই সংগঠনটির অস্তিত্ব রয়েছে। বর্তমানে ফেডারেশন কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলেই বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে একজন করে প্রতিনিধি নিয়ে কনফেডারেশন গঠন করা হয়েছে। তাঁদের উদ্দেশ্য টলিউডে একটি সুস্থ কর্মপরিবেশ তৈরি করা। স্বীকৃতির প্রশ্নে সাধন তালুকদার বলেন, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে তাঁদের চিঠি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এর অর্থ সরকারি স্বীকৃতি কি না, সে বিষয়ে দপ্তরের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
১৩ জুলাইয়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন টলিউড-সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী, রুদ্রনীল ঘোষ এবং হিরণ চট্টোপাধ্যায়। বৈঠক শেষে হিরণ জানিয়েছিলেন, বিনোদন জগতের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের প্রস্তাব হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন আইন মেনে নতুন সংস্থা গঠন করলে তা আটকানো সম্ভব নয়। তবে, ১৩ জুলাইয়ের বৈঠকে উপস্থিত চার বিধায়কের কেউই কনফেডারেশনের এই চিঠি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। বর্তমানে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। কনফেডারেশনকে ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, বা তাদের কোনও স্বীকৃতি দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখনও সরকারের তরফে জানানো হয়নি।


