নয়াদিল্লি: নব্বইয়ের দশকে ক্লিন-শেভড মুখ, কোঁকড়া চুল, গোল ফ্রেমের চশমা আর উজ্জ্বল বাদামি চোখের সেই তরুণকে দেখে অসংখ্য হৃদস্পন্দন যে একটু বেড়ে যেত, তা বলাই বাহুল্য। রাজীব গান্ধীর বছর কুড়ির ছেলে (Rahul Gandhi) তখন অনেকেরই ‘ক্রাশ’। সময় গড়িয়েছে, বয়স এখন ৫৬। কিন্তু সল্ট-অ্যান্ড-পেপার দাড়ি, পরিণত ব্যক্তিত্ব আর স্বচ্ছন্দ উপস্থিতিতে রাহুল গান্ধী যেন সত্যিই ‘এজিং লাইক ফাইন ওয়াইন’। রাজনীতির ময়দানে তাঁকে ঘিরে যত বিতর্কই থাকুক, ‘মোস্ট এলিজেবল ব্যাচেলর’-এর তকমা এখনও অটুট।
আর সেই চিরচর্চিত ব্যাচেলরকে (Rahul Gandhi) বিয়েতে রাজি করানোর ‘স্পেশাল মিশন’ এবার নাকি গিয়ে পড়ল ভাইরাল সিজেপি আন্দোলনকারী মোহাম্মদ ইরফানের কাঁধে! খোদ বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মজার অনুরোধে! সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানানো এই ‘ফ্যামিলি প্লট টুইস্ট’ এখন সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন বিনোদন। রাজনীতির ময়দানে সংবিধান, শ্রমিকের অধিকার আর গণতন্ত্র নিয়ে জোরালো বার্তা দিয়েই ভাইরাল হয়েছিলেন CJP আন্দোলনের মুখ মোহাম্মদ ইরফান। তবে এবার তাঁর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু রাজনীতি নয়, রাহুল গান্ধীর বিয়ে!
ইরফানের দাবি, রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) তাঁর বাড়িতে যাওয়ার আগে ফোন করেছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র। আর সেই ফোনেই নাকি ছিল একেবারে ‘পারিবারিক দায়িত্ব’, “রাহুলকে একটু বুঝিয়ে বলুন, বিয়ে করুক! আমার কথা তো শুনেই না!” হাসতে হাসতেই এমন অনুরোধ করেছিলেন প্রিয়াঙ্কা।
কিন্তু এখানেই গল্পে টুইস্ট। ইরফানের সাফ জবাব, “আমি তো চাই রাহুল গান্ধী বিয়ে না-ই করুন!” এরপরই রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) পৌঁছে যান দিল্লির সাওদা জেজে কলোনিতে ইরফানের বাড়িতে। সেখানে অবশ্য বিয়ের আলোচনা বেশিক্ষণ টেকেনি। কথাবার্তা ঘুরে যায় সংবিধান, গণতন্ত্র, শ্রমিকদের অধিকার এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের জীবনসংগ্রামের দিকে।
ইরফান স্পষ্ট জানান, তাঁর কোনও ব্যক্তিগত দাবি নেই; তিনি শুধু চান শ্রমজীবী মানুষের সমস্যাগুলি যেন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকে। অল্প পড়াশোনা, পেশায় বরফ বিক্রেতা! তবু Google Voice Search আর YouTube দেখে নিজেই সংবিধান ও শ্রমিক অধিকার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছেন ইরফান। সেই কারণেই তাঁর সাক্ষাৎকার সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তোলে। তবে এই গোটা পর্বে সবচেয়ে ভাইরাল হয়ে উঠেছে একটাই প্রশ্ন, রাহুলের (Rahul Gandhi) বিয়ের ‘মিশন’ কি শেষ পর্যন্ত ইরফানের হাতেও সফল হল না?


