Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: সংসদ অভিযানের সময় (CJP Parliament March) রাজধানী দিল্লিতে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের (Delhi Police) উপর হামলার অভিযোগে এবার সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হলেন আহত পুলিশকর্মীদের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, বিক্ষোভের নামে যারা পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে (Police Attacked) এবং যাঁদের উস্কানিতে এই ঘটনা ঘটেছে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
অভিযোগ, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র সংসদ অভিযান চলাকালীন যন্তর মন্তর এবং আশপাশের এলাকায় সংঘর্ষের জেরে একাধিক পুলিশকর্মী গুরুতর জখম হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন এসিপি কৈলাশ সিং বিষ্ট, এএসআই সন্দীপ, কনস্টেবল ধীরজ এবং এএসআই হেমেন্দর রাঠি। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা একযোগে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, ২০, ২৪ এবং ২৫ জুলাই আন্দোলনের সময় ডিউটিতে থাকা দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে কাঁচের বোতল, পাথর এবং ধারালো টাইলসের টুকরো ছোড়া হয়। এই হামলায় বহু পুলিশকর্মী গুরুতর আহত হন এবং তাঁদের প্রাণও ঝুঁকির মুখে পড়ে।
উল্লেখ্য, একই ঘটনায় পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সেই মামলাতেই আহত পুলিশকর্মীদের পরিবার নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্ত হওয়ার আবেদন করেছে।
পরিবারগুলির আইনজীবীর বক্তব্য, সংবিধান নাগরিকদের মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই অধিকার ব্যবহার করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা কর্তব্যরত সরকারি কর্মীদের উপর হামলা চালানোর কোনও অনুমতি দেয় না।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের সামনে প্রবীণ আইনজীবী শ্রীধর পোটারাজু এই বিষয়টি তুলে ধরেন। আবেদনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানানো হয়েছে।
প্রথমত, সাধারণ নাগরিকদের মতোই ডিউটিতে থাকা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তার সাংবিধানিক অধিকার স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, যারা এই হামলার পরিকল্পনা করেছে বা উস্কানি দিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি তোলা হয়েছে।
তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালন করার সময় যাতে কোনও পুলিশকর্মী এ ধরনের হামলার শিকার না হন, সেই উদ্দেশ্যে কেন্দ্র সরকারকে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা নির্দেশিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই আবেদনের শুনানি বুধবার সুপ্রিম কোর্টে হতে পারে। এখন নজর থাকবে, এই মামলায় শীর্ষ আদালত কী পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ দেয়।


