কলকাতা: নন্দীগ্রাম-রেজিনগর উপনির্বাচনের (Nandigram-Rejinagar Bypoll 2026) ডঙ্কা বাজতেই ফের জমে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা! ‘জয়ের সম্ভাবনা নেই, তাই আগে প্রার্থী ঘোষণা করে পাবলিসিটি!’ উপনির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে কালীঘাট তৃণমূলকে তীব্র খোঁচা দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh)। সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একের পর এক ইস্যুতে তৃণমূলকে নিশানা করলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা।
তাঁর কটাক্ষ, “তৃণমূলে তো বাড়ির চাকর-বাকরকে প্রার্থী করে দিলেও চলবে।” অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে দিলীপের (Dilip Ghosh) দাবি, তাঁদের দলে রয়েছে নির্দিষ্ট রীতি-নীতি। পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠকের পরই যথাসময়ে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।
তবে শুধু প্রার্থী ঘোষণা নয়, তৃণমূলের দুই শিবিরের ‘জোড়াফুল প্রতীক যুদ্ধ’ নিয়েও তোপ দাগেন দিলীপ। তাঁর বক্তব্য, মানুষ যে দলকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের আবার ‘আসল-নকল’ নিয়ে লড়াই কেন? তাঁর দাবি, ২০২৬-এর নির্বাচনে প্রতীক নিয়ে কোনও দ্বন্দ্ব ছিল না। তা সত্ত্বেও মানুষ তাঁদের জেতায়নি। ফলে প্রতীক নয়, দলের সংস্কৃতি নিয়েই মানুষ বেশি চিন্তিত।
প্রসঙ্গত, জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে জটিলতার মধ্যেই রবিবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের (Nandigram-Rejinagar Bypoll 2026) প্রার্থী ঘোষণা করেছে কালীঘাট তৃণমূল। নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করা হয়েছে। দীর্ঘদিন নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী হওয়া নিয়ে জল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনার অবসান ঘটে। আর সেই প্রার্থী ঘোষণাকেই নিশানা করে দিলীপের কটাক্ষ, জয়ের লড়াইয়ের আগেই কি শুরু হয়ে গেল প্রচারের লড়াই?
এরই মধ্যে সোমবার গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে আরও এক অন্য বার্তা দিলেন দিলীপ (Dilip Ghosh)। রাজ্যের অলিগলিতে গণেশ পুজোর প্রসঙ্গ তুলে তাঁর মন্তব্য, “গণেশ এলে শান্তি, সমৃদ্ধি আসবে।” গুজরাট ও মহারাষ্ট্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অন্যরা এগিয়ে যাচ্ছে, আর বাংলায় আমিষ-নিরামিষ নিয়ে ঝগড়া চলছে। তাঁর কথায়, “গণেশই সবাইকে উদ্ধার করবেন।”
অর্থাৎ একদিকে জোড়াফুলের প্রতীক নিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরের টানাপোড়েন, অন্যদিকে উপনির্বাচনের (Nandigram-Rejinagar Bypoll 2026) প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা! তার মাঝেই দিলীপের ‘গণেশ’ বার্তা। ভোটের লড়াই যত এগোবে, ততই যে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়বে, তা বলাই যায়।


