Aaj India Desk, কলকাতা : দলবদলের পরই যেন আইনি স্বস্তির হাওয়া বইলো বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) জীবনে। পাঁচ বছরের পুরনো আর্থিক প্রতারণা মামলায় তাঁকে আগাম জামিন দিল কলকাতা হাই কোর্ট। সোমবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের একক বেঞ্চ জানায়, তদন্ত চলবে, তবে এই মুহূর্তে অনুব্রত মণ্ডলকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই। তবে একই সঙ্গে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
কী অভিযোগ অনুব্রতর বিরুদ্ধে?
বলপুরের বাসিন্দা শুভেন্দু মণ্ডলের অভিযোগ, অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal) এবং তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। পাশাপাশি, মমতার ক্ষমতায় থাকাকালীন বিজেপি সমর্থক হওয়ার কারণে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগকারীর দাবি, সেই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর অভিযোগ পুলিশ গুরুত্ব দেয়নি। পরে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন এবং বিচার চেয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেন।
কী জানালো হাই কোর্ট?
সোমবার মামলার শুনানিতে আদালত জানায়, অভিযোগের ঘটনা বহু বছরের পুরনো। সেই কারণে তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত চালিয়ে যেতে পারলেও, বর্তমানে অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা নেই বলেই রায় জানিয়েছে আদালত। এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) আগাম জামিন মঞ্জুর করা হয়।
জামিনের শর্ত কী?
আগাম জামিনের সঙ্গে কয়েকটি শর্তও বেঁধে দিয়েছে আদালত।
- তদন্তকারী আধিকারিকের (আইও) সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
- আগামী ১০ দিনের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করতে হবে।
- ভবিষ্যতে তদন্তের স্বার্থে যখনই তলব করা হবে, তখনই হাজিরা দিতে হবে।
উল্লেখ্য, অনুব্রত মণ্ডলের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে দাবি করেন, অভিযোগের ঘটনা ২০২১ সালের হলেও এফআইআর দায়ের হয়েছে ২০২৬ সালে। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর পুরনো ঘটনাকে সামনে এনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলা করা হয়েছে। এই যুক্তির ভিত্তিতেই আগাম জামিনের আবেদন জানানো হয়।
হাই কোর্টের নির্দেশে অনুব্রত মণ্ডল আপাতত গ্রেপ্তার থেকে সুরক্ষা পেলেও মামলার তদন্ত অব্যাহত থাকবে। আদালতের শর্ত মেনে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে তাঁকে। তদন্তে নতুন তথ্য বা প্রমাণ সামনে এলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী হবে।


