নয়াদিল্লি: পেট্রোলে ইথানল মেশানো নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা। বিশেষ করে ইথানল মেশানো গাড়ি খারাপ হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এই নিয়ে কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গডকরির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে। শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর সমাজমাধ্যমে একাধিক পোস্ট ভাইরাল হয়, যেখানে বলা হয়, “এরপর কি নীতিন গডকরি?”
এই আবহেই জ্বালানি নীতি নিয়ে সরব হতে শুরু করেছে আরও একটি নতুন সংগঠন, ‘E20 জনতা পার্টি’ (E20 Janata Party)। পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর সরকারি নীতির বিরোধিতা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার শুরু করেছে তারা। ইতিমধ্যেই এক্স (X)-এ তাদের অনুসরণকারীর সংখ্যা ১৩ হাজার এবং ইনস্টাগ্রামে ৮,৮০০-রও বেশি।
এক্স-এ একটি দীর্ঘ পোস্টে নিজেদের পরিচয় দিয়েছে ‘E20 জনতা পার্টি’ (E20 Janata Party)। তাদের দাবি, তারা কোনও রাজনৈতিক দল নয়, বরং সাধারণ নাগরিকের অধিকার রক্ষায় গড়ে ওঠা একটি সচেতনতা অভিযান। সংগঠনের বক্তব্য, গ্রাহক যেমন বাজারে নিজের পছন্দমতো খাবার বা অন্যান্য পণ্য কেনার স্বাধীনতা পান, তেমনই পেট্রোল কেনার ক্ষেত্রেও তাঁর পছন্দের অধিকার থাকা উচিত।
X link: https://x.com/E20Party/status/2081365319139180644
সংগঠনের মূল দাবি, দেশের প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে ইথানল-মিশ্রিত E20 জ্বালানির পাশাপাশি ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ পেট্রোলও বিক্রি করতে হবে। তাদের বক্তব্য, “পাবলিকের কষ্টের টাকায় কেনা গাড়ির ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ হোক। আমাদের ১০০ শতাংশ খাঁটি পেট্রোল কেনার অপশন চাই।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই মিম, ব্যঙ্গচিত্র এবং বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে ইথানল মিশ্রণের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন এই আন্দোলনের সমর্থকরা। তাঁদের দাবি, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহার করবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত গ্রাহকের।
যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের দাবী, ইথানল মিশ্রণের নীতিকে জ্বালানি আমদানি কমানো, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ! এবার ‘E20 জনতা পার্টি’র (E20 Janata Party) উত্থান এই নীতি নিয়ে নতুন বিতর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আপাতত সংগঠনটি অনলাইন প্রচারেই জোর দিচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে তারা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করবে কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের।


