কলকাতা: নিট আন্দোলনে (NEET Protest Kolkata) ধর্মতলায় ‘হিংসা ছড়ানোর’ অভিযোগে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন ১৪ জন। সদ্য গ্রেফতার হওয়া হওয়া তিন অভিযুক্ত হলেন শাহবাজ খান (কড়েয়া), শেখ মহম্মদ সলমান হোসেন (রাজাবাগান) এবং মহম্মদ জহিরউদ্দিন মাল (ভাঙড়)। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নির্দেশে তাঁদের ‘গুন্ডাদমন আইনে’ গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। যা নিয়ে তোলপাড় রাজ্যরাজনীতি। এবার আন্দোলনে (NEET Protest Kolkata) অশান্তি এবং সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় গ্রেফতারি নিয়ে রবিবার ফের কড়া অবস্থান নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেইসঙ্গে তাঁর দাবী, ‘গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা কোনও ছাত্র নন, বরং “জামাতি ও মৌলবাদী”, যাঁরা দেশে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছেন।
রবিবার মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “খারিজি মাদ্রাসা, ওবিসি শংসাপত্র নিয়ে তদন্ত চলছে। রাগ আছে। এরা কেউ ছাত্র নয়। এরা জামাতি, মৌলবাদী। ভারতকে অশান্ত করতে চায়। গুন্ডাদমন আইনে ব্যবস্থা হবে।” উল্লেখ্য, শুক্রবার ধর্মতলায় আন্দোলনের মিছিল (NEET Protest Kolkata) চলাকালীন একদল দুষ্কৃতী হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে। কর্তব্যরত একাধিক সাংবাদিকও নিগ্রহের শিকার হন বলে অভিযোগ। ঘটনার পর হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছ’টি এবং এন্টালি থানায় একটি, মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাগুলিতে গুন্ডাদমন আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন ভিনরাজ্যে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে অন্ডালের কাছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে থেকে গ্রেফতার করা হয়। সাংবাদিক নিগ্রহ এবং অশান্তির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলিও। সিজেপিও মিডিয়ার উপর হামলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নিন্দা করে।
পাশাপাশি, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির ছাত্র আন্দোলনের (NEET Protest Kolkata) সরাসরি যোগ নেই বলেও দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। তাঁর কথায়, “নিট আন্দোলনে ককরোচ জনতা পার্টির মিছিলের সঙ্গে এদের যোগ নেই। সাংবাদিকদের দায়ের করা মামলাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে। বিধানসভায় যা বলেছি, তাই হবে।”
এদিকে, ঘটনার তদন্তে ভিডিও ফুটেজ, সিসিটিভি এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখে আরও অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কলকাতা পুলিশ। লালবাজারের দাবি, হামলা ও অশান্তির ঘটনায় জড়িত কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।


