Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে চলতে থাকা ছাত্র আন্দোলনের চাপে শনিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। তিনি নিজের পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi)কাছে পাঠান। পরে সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Droupadi Murmu) সেই ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেন।
এদিকে, শিক্ষা মন্ত্রকের (Education Ministry) নতুন দায়িত্ব কার হাতে যাচ্ছে, সেই সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীকে (Pralhad Joshi) অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি ভোক্তা সুরক্ষা, খাদ্য ও গণবণ্টন এবং নতুন ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রকের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন।
নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস (NEET Paper Leak) ও শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত মাসে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। তাদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। ধীরে ধীরে এই আন্দোলন দিল্লির গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। বহু ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়ান। পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকও সিজেপির সমর্থনে টানা ২৬ দিন অনশন করেন।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং নিট-সংক্রান্ত ঘটনায় প্রাণ হারানো পড়ুয়াদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ—এই তিনটি দাবি নিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কেন্দ্রের একাধিক দফায় আলোচনা হয়। শনিবার তৃতীয় দফার বৈঠকের আগেই ধর্মেন্দ্র প্রধান মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেন। পদত্যাগের পর প্রকাশ করা এক খোলা চিঠিতে তিনি জানান, এটি তাঁর ব্যক্তিগত সম্মান বা রাজনৈতিক অবস্থানের প্রশ্ন নয়। তাঁর দাবি, আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে যাতে কোনও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি পরিস্থিতির অপব্যবহার করতে না পারে এবং ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতার মধ্যে না পড়ে, সেই কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর কয়েক ঘণ্টা পরে সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের বৈঠক হয়। বৈঠকের পর আন্দোলনকারীরা জানান, তাঁদের তিনটি দাবিই কেন্দ্র মেনে নিয়েছে। সরকারের আশ্বাস পাওয়ার পর আপাতত আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে চার সপ্তাহ পরে আবারও উভয় পক্ষের মধ্যে বৈঠক হবে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সোনম ওয়াংচুক বলেন, সরকারের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে, এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি। তাঁর কথায়, শুধু একজন মন্ত্রীর ইস্তফা দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না। শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শুধু শিক্ষাক্ষেত্র নয়, দেশের শাসন ব্যবস্থাতেও পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে এবং কেন্দ্রের সেই দিকেও নজর দেওয়া উচিত।


