Aaj India Desk, কলকাতা: দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের চাপে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) পদত্যাগকে “আংশিক সাফল্য” বলেই মনে করছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি (SFI)। শনিবার আয়োজিত এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে এসএফআই, এআইএসএ, ডিওয়াইএসএ-সহ একাধিক সংগঠনের নেতারা জানান, শুধু শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফায় আন্দোলন থামবে না। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA), নীতি আয়োগ এবং জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) বাতিলের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
ছাত্র সংগঠনগুলির বক্তব্য, গত এক মাস ধরে দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যে লাগাতার আন্দোলন হয়েছে, তারই চাপে শেষ পর্যন্ত ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এনটিএ ও এনইপি বাতিলের দাবিতে আগামী দিনে আরও বড় আকারে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
শুক্রবার কলকাতার ছাত্র মিছিল ঘিরে যে অশান্তির ঘটনা ঘটে, তা নিয়েও এদিন সরব হন বাম ছাত্র সংগঠনের নেতারা। তাদের অভিযোগ, ধর্মতলায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলার সময় পরিকল্পিতভাবে কিছু বহিরাগতকে ঢুকিয়ে গোলমাল বাধানোর চেষ্টা করা হয়। মৌলালী ও ডোরিনা ক্রসিং এলাকায় মিছিল ভাঙতে ইট-পাটকেল ও বোতল ছোড়া হয় বলে দাবি তাদের। এই ঘটনার পিছনে শাসক দল ও বিজেপির মদতপুষ্ট কিছু লোক ছিল বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিক এবং আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের উপর হামলার ঘটনাকেও পূর্বপরিকল্পিত বলে দাবি করেছে তারা।
আহত সাংবাদিকদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বাম ছাত্র নেতৃত্ব জানিয়েছে, শুরু থেকেই তারা আক্রান্ত সাংবাদিকদের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসার দায়িত্বও নেবে। একই সঙ্গে হাসপাতালে পুলিশের বয়ান নেওয়ার প্রক্রিয়া এবং সেখানে কিছু রাজনৈতিক নেতার উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা।
মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যেরও সমালোচনা করেছে ছাত্র সংগঠনগুলি। তাদের বক্তব্য, মিথ্যা মামলা, ভয় দেখানো বা বিদ্বেষ ছড়িয়ে এই ছাত্র আন্দোলনকে থামানো যাবে না। আগামী দিনে আরও বড় কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে বলেও জানিয়েছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির নেতৃত্ব।


